Saturday, April 13, 2024

নারী উদ্যোক্তা পুর্ণিমার স্বপ্ন পূরণে বাঁধা পুঁজি

সাইফুল আফ্রিদি.

৮ মার্চ নারী দিবস। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে বসেছে নারী উদ্যোক্তা মেলা। মেলার আজ শেষ দিন। মেলায় বসেছে ৩০টি স্টল। বেশিরভাগই খাবারের দোকান, বুটিকস, হস্তশিল্পের দোকান। ঘুরতে ঘুরতে মেলার দক্ষিণ পূর্ব দিকে চোখে পড়ে হস্তশিল্পের কারুকার্যের একটি দোকান। এক ভদ্র মহিলা ১৪-১৫ বছর বয়সী এক ছেলেকে নিয়ে বসে আছেন। জানা গেল এটি ওই ভদ্র মহিলার ছেলে। সামনে সাজানো রয়েছে ছোট বড়, মাঝারি হাতের তৈরি হাত ব্যাগ, মনিপুরি ব্যাগ, কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ, বাহারি রঙের ফুলের কারুকাজ সেসব ব্যাগের ওপর বসানো হয়েছে চুমকি। চকচক করছে আলোয়, দেখতে বেশ লাগছে। এসব ব্যাগ দেখতে দেখতে জানলাম ওই ভদ্র মহিলার নাম পূর্ণিমা। দোকানে ব্যাগ থাকলেও নাই কোন ব্যানার বা সাইনবোর্ড। পূর্ণিমা জানালেন, হুটহাট করে স্টল দিয়েছেন। ব্যানারের সময় হয়ে ওঠেনি।

তিনি এবার নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মেলায় স্টলও দিয়েছেন এবার। তিনি ৫ বছর ধরে হস্তশিল্পের এসব পণ্য বানিয়ে বিক্রি করে আসছেন। বাড়িতে বসে হাতে তৈরি এসব জিনিসপত্র তিনি বার্মিজ মার্কেটে বিক্রি করেন। মাসে আয়ও হয় মোটামুটি। এ নিয়ে তিন ছেলে মেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগান এবং সংসারের খরচ মেটান। মেলায় দুই দিনে প্রায় ৩ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। প্রথম দিন ১৬শ’টাকা এবং শেষ দিন ১৫শ’ টাকা বিক্রি করেন।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে পূর্ণিমা বলেন, পুঁজি কম। পুঁজি পেলে ছোট বা মাঝারি গার্মেন্টস দেওয়ার স্বপ্ন আছে। আমার জিনিসপত্রের কাস্টমার চাহিদাও রয়েছে। তিনি বলেন, কোন সহযোগিতা পেলে অনেক মেয়েদের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভর করতে পারবো। অল্পপূঁজি দিয়ে সম্ভব হয়ে উঠছে না আমার।

জিনিসপত্র নেড়েচেড়ে দেখছি আর পূর্ণিমার বলা মুখের কথা শুনছি। তিনি জানান, ছেলেদের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই সবকিছু তাকেই দেখতে হয়।

পূর্ণিমার পাশে বসা তার ছোট ছেলে শুভ দাস। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে  নবম শ্রেণিতে পড়ে সে। মায়ের মুখ থেকে বাবার কথা শোনতে না শোনতেই মায়ের মুখে বলা কথা কেড়ে নিয়ে শুভ বলেন, বাবা ইঞ্জিনের কাজ করতেন। একদিন ভারী ইঞ্জিন তুলতে গিয়ে ডান হাতে চোট লাগে। এরপর থেকে আর হাতটি নিয়ে কাজ করতে পারেন না। তখন থেকেই আমার মা আমাদের পড়ালেখার খরচসহ সংসারের খরচ যোগান। শুভ দাসের বড় বোন ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেছে। অন্য জন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পূর্ণিমার বাড়ি মহাজের পাড়া পাহাড়ের ওপরে বলে জানান। ঘূর্ণিঝড় মোখার সময় ঘরের চাল ভেঙে গিয়ে বাড়িটিরও দূরাবস্থা। এখনো ঠিক করতে পারেনি বলে জানান।

পুর্ণিমার হস্তশিল্প স্টলের নাম ‘ফ্যাশন ডিজাইন’। তবে উদ্যোক্তা পুর্ণিমার অনলাইনে বেচাকেনার ইচ্ছে স্বত্বেও বিক্রি করতে পারছেন না একটি স্মার্টফোনের অভাবে। পুর্ণিমা বলপন, এ যাত্রায় কারো সহযোগিতা পেলে নিজের ফ্যাশন ডিজাইন হাউজটিকে একটি হস্তশিল্পের গার্মেন্টস ফ্যাশন ডিজাইন হাউজ করব।

লড়ে যাওয়া এ নারী হয়তো সহযোগিতা পেলে গড়ে তুলতে পারবেন তার স্বপ্নের ফ্যাশন ডিজাইন গার্মেন্টস। যেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে অসংখ্য বেকার নারী।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page