Saturday, April 13, 2024

কুতুবদিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে খাল ভরাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় উত্তর ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে খাল দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধূরুং বাজারের উত্তর পাশে তিন রাস্তার সংযোগস্থলে আজম সড়কের কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পশ্চিমে খালের পূর্ব পাশের বিশাল একটা অংশ দখল করে রেখেছেন উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার। এখন দুটি স্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে দিনরাত খাল ভরাট করছেন। তাঁর দেখানো পথে অন্যরাও যে যার মতো দখল করে রেখেছেন খালটি। এর আগেও তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে খালসহ সরকারি খাস জমি দখল করেছেন। দখলকৃত সেইসব জায়গায় গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তর ধূরুং ও দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খালটি, পশ্চিমে উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আমিরার পাড়া, দক্ষিণ ধূরুং অলি পাড়া থেকে প্রদিপ পাড়া হয়ে পিলটকাটা খালে সংযুক্ত হয়েছে। একসময় খালটি খরস্রোতা ছিল। নৌকা দিয়ে লবণ সহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়া করা হতো এই খাল দিয়ে। এখন খালটি দখল-বেদখলে মৃত প্রায়। বাজারের ময়লা পানি আর দখল দূষণের ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, খাল দখল নিঃসন্দেহে একটি গর্হিত কাজ। আমরা বাপার নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কুতুবদিয়ার সকল খাল দখল মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি।

স্থানীয় সাংবাদিক কাইছার সিকদার বলেন, প্রতিনিয়ত কুতুবদিয়ার সব জায়গায় প্রভাবশালীদের দ্বারা খালসহ সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় পানি নিষ্কাশন বিঘ্নিত হয়ে জ্বলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ডুবে যাবে, লবণ উৎপাদন ব্যাহত হবে। গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর দখলদারিত্ব বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

খাল দখলের বিষয়ে উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে খালে মাটি ভরাট করছি। নিজের পকেটের টাকা খরচ যাত্রী ছাউনি তৈরি করবো। সেখানে একটি সীমানা গেইট থাকবে। উপজেলা সিটিজেন পার্কের মতো করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবো। পরে প্রকল্প দিয়ে সেই খরচ ম্যানেজ করার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জর্জ মিত্র চাকমা জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। খাল ভরাটের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page