Friday, April 12, 2024

কক্সবাজারে প্রথম জাতীয় পতাকা উড়ানোর ইতিহাস

আব্দুর রশিদ মানিক:

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ কক্সবাজারে প্রথম পতাকা উত্তোলন হয় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে। সেদিন কোর্ট বিল্ডিং মহকুমা কার্যালয়ের পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলে স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন হয় কক্সবাজারে।

৩ মার্চ পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভা। সভা শুরুর আগে সেসময় জড়ো হয় ছাত্রলীগ নেতারা। হঠাৎ একজন ছাত্র তৎকালীন মহকুমা কার্যালয়ে উত্তোলিত পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে নিয়ে আসেন সভাস্থলে। সেই ছাত্রটি ছিলো আল মামুন শামসুল হুদা। বাহারছড়ার সুলতান মাস্টারের ছেলে ইকবালের কাঁধে ভর করে ওঠে সেই পতাকাটি নামান। এরপর পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন সেদিনের ছাত্রলীগ নেতা একে এম মনসুরুল হক। টিটিএনকে সেদিনের বীরত্বগাঁথা শোনাচ্ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুরুল হক।

মনসুর আহমেদ জানান, বড় বাজারের ইব্রাহীম নামক এক দর্জির কাছ থেকে এই পতাকা সেলানো হয়েছিলো। আসম আব্দুর রবের পতাকার ডিজাইন কি রকম সেটি রেডিওতে শোনে সেই মাপে পতাকা বানিয়ে নেন বলে জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওই দর্জির নাম ছিলো ইব্রাহীম খলিফা।

ইব্রাহিম খলিফার কাছে সেদিনের অনুভূতি জানতে যোগাযোগ করা হলে ইব্রাহিম খলিফা বলেন, কক্সবাজার বড় বাজারে আমি ওস্তাদ ইব্রাহিমের কাছে কাজ করতাম। আমার নামও ইব্রাহিম আমার ওস্তাদের নামও ইব্রাহিম। ছাত্রনেতা মনসুর এসে আমার ওস্তাদ ইব্রাহিমকে পতাকাটি সেলাই করে দিতে বলেন। তবে ওস্তাদ ইব্রাহিম পতাকা তৈরির কাজটির দায়িত্ব দেন আমাকে (খলিফা ইব্রাহীম)।

সেদিন পতাকা পোড়ানোর জন্য লাইটার এনে দিয়েছিলেন সেদিনের আরেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি জানান, সকালে পতাকা নামিয়ে বিকেলে সেটি পুড়িয়ে ফেলা হয়। ছাত্রনেতা আল মামুন শামসুল হুদা ছিলেন কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হুদার ছেলে। তিনি তিন তলার উপরে ওঠে সেদিন পতাকাটি নামিয়ে এনেছিলেন। এরপর সেটি বিকেলে সমাবেশস্থলে আগুন দিয়ে পুড়ানো হয়। এরপর ঐতিহাসিক ৭মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। বাঙালী জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে ছিনিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page