Sunday, April 21, 2024

মায়ের জন্মদিনে মেয়েরও জন্ম, পুড়ে অঙ্গার একইদিনে!

টিটিএন ডেস্ক :

রাজধানীর বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে থাকা শিশু ফায়রুজ কাশেম জামিরার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার রাতেই স্বজনরা তার বাবা-মাসহ শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করে আজ শনিবার সকালে তিনজনের মরদেহ নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ফায়রুজ কাশেম জামিরাকে নিয়ে বাবা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজালাল উদ্দিন (৩৪) ও মা মেহেরুন্নেছা জাহান হেলালী (২৪) বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে গিয়েছিলেন। এরপর আগুন লাগলে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসে তাদের তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করেন শাহজালালের শ্বশুর মুক্তার আলম হেলালী।

তিনি জানান, শাহজালাল সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। তার অফিস ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও। কক্সবাজার উখিয়া থানার পূর্ব গোয়ালিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবুল কাশেমের ছেলে শাহজালাল।

মুক্তার আলম হেলালী বলেন, শাহজালাল স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কেরাণীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকায় থাকতেন। তার অফিস থেকে ৩ দিনের ছুটি পেয়েছিলেন। সেই ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে খাগড়াছড়ি ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী রাজারবাগ এলাকায় গ্রিন লাইন বাসের টিকেটও কেটেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাসে চড়ে রওনা দেয়ার কথা ছিল। সে জন্য সন্ধ্যায় ৩ জন বাসা থেকে রওনা হন। এরপর বেইলি রোডে ওই ভবনের কোনো একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে উঠেছিলেন। সেখানেই আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, মা মেহেরুন্নেছা জাহান হেলালীর জন্মদিন ১৪ সেপ্টেম্বর। একইদিন জন্ম হয় মেয়ে ফাইরুজের। জন্মের পর থেকে মা-মেয়ে একসাথে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুও হলো একই দিনে।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, স্বজনরা তাদের চেহারা দেখেই পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছেন। শনিবার সকালে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেইলি রোডের আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অনকে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওই ভবনটিতে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট ছাড়াও স্যামসাংয়ের শোরুম, গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার, ইলিন, খানাস ও পিৎজা ইন আছে বলে জানা গেছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page