Wednesday, April 10, 2024

বিকেএসপি ভর্তি নিশ্চিত তবে যাত্রা অনিশ্চিত মহেশখালীর ইসফাতের

সাইফুল আফ্রিদি

কৃষক বাবার কাঁধেই পুরো সংসারের ঘানি। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তার। তবু সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকা বাবা সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন ছেলের স্বপ্ন পূরণে। ধর্ণা দিয়েছেন অনেকের কাছেই। ছেলেকে এতদিন অল্পস্বল্প খরচ ম্যানেজ করে দিতে পারলেও সব স্বপ্ন থমকে গেছে ৩০-৪০ হাজার টাকার সামনে। অল্প সময়েই যোগাড় করতে হবে এ টাকা। ছেলে বিকেএসপির তালিকায় চূড়ান্ত বাছাই পর্বে ৩১ জনের মধ্যে চতুর্থ হয়েছে। আগামী ৩রা মার্চে যোগ দিতে হবে বিকেএসপিতে। কিন্তু কৃষক বাবার কাছে ছেলের যাতায়াত,ইউনিফর্ম ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা ধরা দিয়েছে টাকার পাহাড় হয়ে। আর এতে করে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে লক্ষ পানে ছোটা তরুণ ইসফাতের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ।

মহেশখালীর মাতারবাড়ি এ অদম্য ছেলেটির পুরো নাম নুর ইসফাত। ২০২১ সালে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়াকালীন মাতারবাড়ী হাইস্কুল মাঠে একঝাঁক খুদে ফুটবলারের মাঝখানে হালকা পাতলা গড়নের নুর ইসফাত নজর কেঁড়েছিল রেফারি সাইফুর। ইসফাতকে সেখান থেকে এনে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্ণামেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেন রেফারি সাইফু ৷ এরপর থেকে ইসফাতের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২৩ সালের জানুয়ারিতে ‘তৃণমূল প্রতিভা অন্বেষণে’ সারাদেশ থেকে ১২১ জনের তালিকায় দ্বিতীয় হয় ইসফাত। এতে কক্সবাজার জেলা থেকে একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ১ মাসের ক্যাম্প করার সুযোগ পায় ইসফাত। পরবর্তীতে পুণরায় ২ মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম মাদারবাড়ি শোভানিয়া একাডেমির পক্ষ হয়ে কিশোর লীগ ২০২৩ এ সেরা খেলোয়াড় ও চ্যাম্পিয়ন হয় সে। একই বছর দীর্ঘ মেয়াদী ভর্তি (ফুটবল) এ সারা বাংলাদেশ থেকে ১০০ জনের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে ৯ নম্বরে নির্বাচিত হয় ইসফাত। সপ্তাহব্যাপী বাছাইয়ের পর ফাইনালি ৩১ জনের চূড়ান্ত তালিকায় ৪ নম্বরে স্থান পায় ইসফাত।

নুর ইসফাত তার এ দীর্ঘ দীর্ঘ যাত্রায় কোচ সাইফু, মহেশখালীর সাবেক ইউএনও মাহফুজ ইরফান, শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কায়েস বিন হাবিব, শান্তি লাল নন্দি ও প্রণয় এর সহযোগিতা পেয়েছে। তবে এবার স্বপ্ন ছুঁই ছুঁই কিন্তু অর্থাভাবে অনিশ্চিতের মুখে তার স্বপ্নের বিকেএসপি যাত্রা।

সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকা বাবা নুরুল হুদা ছেলের প্রবল ইচ্ছে দেখে ছেলের স্বপ্ন পূরণে বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিয়ে নানান সময় খরচ চালিয়েছিলো। তবে চূড়ান্ত মুহুর্তে এসে ৩০-৪০ হাজার টাকা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতদিন একজন বাবা যেমন লড়ে গেছেন ছেলের স্বপ্ন পূরণে তেমনি লড়ে গেছেন সহযোগিতা করা কয়েক মানুষ। চলুন না, আরেকবার সিঁড়ি হয়ে যায় ইসফাতের জন্য। যে সিঁড়ি বেয়ে মহেশখালী কক্সবাজারের উজ্জ্বল তারকা হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলবে সে। মহেশখালী, কক্সবাজারের ফুটবলের দেদীপ্যমান জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠা এ ফুটবলারকে তার স্বপ্নপূরণে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। আগামীতে কক্সবাজারের এ তরুণ হয়তো জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে উজ্জ্বল করবে সবার মুখ।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page