Friday, April 19, 2024

মহেশখালীর রাজনীতিতে মেয়র মকছুদ-তারেক দ্বন্দ্ব দানা বাঁধছে কেন !

সাইফুল আফ্রিদি:

কক্সবাজারের মহেশখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়ান পৌর আওয়ামি লীগের সভাপতি মেয়র মকছুদ মিয়া। একপর্যায়ে নিজের শাসিত এলাকার প্রভাব দেখিয়ে উচ্চ গলায় কথা বলেন মেয়র মকছুদ । মকছুদের মুখের কথা পড়তে না পড়তেই তারেককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মেয়রের কাছের জন শামসুদ্দিন। এমনটাই জানিয়েছেন  উপজেলা আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন ওসমান শরীফ।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মহেশখালী পৌরসভার বাবুর দিঘীর পাড়ের উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই বৈঠকের কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তারেককে বলতে দেখা যায়, আমার ইউনিয়নে নৌকা প্রথম হয়েছে। তবে বড় মহেশখালি ইউনিয়নে নৌকা দ্বিতীয় হয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগ নৌকায় ভোট দেননি কথাটা সত্য নয়। এ কথা বলার সাথে সাথে মকছুদ মিয়া তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, এখান থেকে যদি কেউ মাস্তানি করে তাহলে…. (এরপরের কথা স্পষ্ট হয়নি) মেয়র মকছুদ মিয়ার কাছের লোক শামসুদ্দিনের উত্তেজিত হয়ে হয়ে হট্টগোল বেঁধে যায়। এতে ভিডিওর বাকি কথা স্পষ্ট শোনা যায়নি। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা মকছুদ ও শামসুদ্দিনকে শান্ত করলে পরে তারেক সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান বলে জানায়। এর আগে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা আশেক এমপির সাথে বেইমানি করে ভোট দেননি`দাবি করে বক্তব্য দেন মেয়র মকছুদ। তার এমন বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেছিলেন তারেক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কথা কাটাকাটির ওই সময় বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালি- কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, `সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় গত সংসদ নির্বাচনে মাননীয় সংসদ সদস্যকে জয় করতে সর্বোচ্চ ভোট দেন কালারমারছড়ার লোকজন। কালারমারছড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রথম হয় এবং দ্বিতীয় হয় বড় মহেশখালী ইউনিয়নে, এই কথা বলার সাথে সাথে মেয়র মকছুদ মিয়ার কাছের লোক সামসুদ্দীন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে মেয়রও তেড়ে আসে। এতে করে সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আমি বেরিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করি।”

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র মকছুদ মিয়া বলেন, সভায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। সামসুদ্দীন তার কেউ নন। তিনি পৌর যুবলীগ নেতা। তবে কোন পদে আছে তা আমার জানা নেই।
মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহুল করিম বাবু বলেন, শামসুদ্দিন নামে পৌর যুবলীগে কোন নেতা বা কর্মী নাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচন পরবর্তী আলোচনা সভায় নিজেদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এর আগেও মেয়র মকছুদ মিয়া কক্সবাজার শহিদ স্মরণি রোডে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তারেককে মারতে তেড়ে যান বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, মকছুদ-তারেক দ্বন্দ্ব কেন দানা বাঁধছে দিনদিন ?

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page