Friday, April 19, 2024

সামনে শবে বরাত ও রমজান, বাড়ছে মাংসের দাম!

সাইফুল আফ্রিদি:

শবে বরাত ও রমজান মাস আসার আগেই বাড়ছে ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম। কক্সবাজার শহরের গরুর মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি মাংসের দাম ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানে কেজিপ্রতি গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মধ্যবিত্তদের আমিষের চাহিদা মেটানো ব্রয়লার মুরগির দামেও কেজিপ্রতি অতিরিক্ত ৪০-৫০ টাকা যোগ হয়েছে।

সোমবার(১৯ ফেব্রুয়ারি) শহরের বাহারছড়া বাজার, বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রয় হচ্ছে ২০০ থেকে ২২৫ টাকা। একসপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রয় করতো ১৮০-১৮৫ টাকা কেজি। প্রতিকেজি পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। দেশি মুরগি প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা মাংসের দাম বৃদ্ধি করতে চাই না। গরুর দাম বৃদ্ধি করে বলেই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা বলেন, মাংসের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে গরুর হাটবাজার।

মাংস ক্রেতা রাকিবুল হাসান জানান, প্রতিবছর রমজান আসলেই গরু ও মুরগির মাংসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। এতে মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। একই কথা বলেছেন শহরের বাসিন্দা বোরহানউদ্দিন। তিনি বলেন, এমনও পরিবার আছে যারা কয়েক মাসে একবারও মাংসের টুকরো মুখে তুলতে পারেনি। রমজান মাসে মানুষ একবেলা ভালো খাবারে সাহরি খেতে চান। এই সময়ে প্রশাসনের উচিত ব্রয়লার ও মাংসের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণ আনা।

আবুবকর সিদ্দিক নামের একজন জানান, অন্যান্য দেশে রমজান মাস এলেই দাম কমে জিনিসপত্রের। একমাত্র বাংলাদেশেই প্রতিবছর রমজান মাস এলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা।

তবে মাংস বিক্রেতারা দাবি করছেন, হাঁট বাজারে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও মাংসের দাম বাড়তি বিক্রি করতে হচ্ছে । তারা জানান, তিন মণ গরু আগে কিনেছিলাম ৮০ হাজার টাকা দামে এখন ৩ মণ দামের গরু কিনতে হচ্ছে ১ লাখ টাকার চেয়ে বেশি দামে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো শবে বরাত ও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গরুর মাংসের দাম বাড়িয়েছে। কয়েকদিন আগেও ৬৫০ টাকায় কেজিপ্রতি মাংস বিক্রি হয়েছিলো। এখন সেই মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দামে। রমজান আসতে আসতে সেই দামের লাগাম ৮০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, দাম বাড়ার কারণে ক্রেতাও কম। চাহিদা কমে যাওয়ায় দুইটি মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে। মিয়ানমার, ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ হওয়ায় দেশীয় গরুর দাম বাড়িয়েছে অসাধু গরু বিক্রেতারা।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page