Wednesday, May 22, 2024

কুতুবদিয়ায় লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে সেচ পাম্প: কমেছে খরচ ও সময়

আবুল কাশেম :

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় লবণ চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে নলকূপের পানি। বছর চারেক ধরে বাড়ছে সেচ পাম্প দ্বারা নলকূপ থেকে লোনা পানি উত্তোলন প্রথা। এতে সময় ও খরচ দু’টি কমছে। সে সাথে বেড়েছে লবণ উৎপাদনও।

এক সময় আস্তা মাটির উপর কাদাযুক্ত লবণ ফুটাত চাষিরা। সাগর, খাল ও নালা থেকে কঠিন কায়িক শ্রমে পানি সেচ করত বাঁশের তৈরি ‘ইছন’ ও কাঠের তৈরি ‘ডঙ্গিল’ দিয়ে।

অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও বর্তমানে লবণ ফুটানো মাঠে শতভাগ পলিথিনের ব্যবহার ও পানি সেচ চলছে পাম্প মেশিন দিয়ে। মান্ধাতা আমলের লবণ উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বহুগুণে লাভবান হচ্ছে চাষিরা।

উপজেলার লবণ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সাগর, খাল ও নালা থেকে পানি সেচ না করে কম খরচে ১২০ থেকে ১৬০ ফুট গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ পাম্প দিয়ে মাঠে লবণাক্ত পানি তুলছে চাষিরা। এ পদ্ধতিতে পানি সেচ চলছে কয়েক বছর ধরে। ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। লেমশীখালী ও উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের নলকূপের পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন বেশি হচ্ছে। বর্তমানে লবণ উৎপাদন শতভাগ প্রযুক্তি-নির্ভর হওয়ায় বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে প্রান্তিক চাষিদের।

এদিকে এক ধরনের কেমিক্যালযুক্ত পলিথিনে উৎপাদিত লবণ মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না তা নিয়ে গবেষণা করা দরকার বলে মনে করেন অনেকে।

লেমশীখালী ইউনিয়নের তহলি পাড়ার আকতার হোছাইন ও জমির উদ্দিনসহ আরও অনেক লবণ চাষী জানান, সাগর বা খালের পানির চেয়ে ভূগর্ভের পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেশি। মাত্র ১২০ থেকে ১৭০ ফুট গভীরে স্থাপিত এসব নলকূপের পানিতে খুব স্বল্প সময়ে (৩ দিনে) লবণ ফুটে। অন্যদিকে খাল বা সাগরের পানি দিয়ে লবণ ফুটাতে সময় লাগে টানা ৫/৬ দিন। তাই পুরো মৌসুমে সাগর বা খালের পানির অনুপাতে নলকূপের পানি দিয়ে প্রতি ৪০ শতকে প্রায় দেড় শত মণ লবণ বেশি উৎপাদন হয়। এতে বহুগুণে লাভবান হচ্ছেন বলে তারা জানান।

তবে নলকূপ থেকে লবণাক্ত পানি উত্তোলন প্রথা বছরকে বছর বেড়ে যাওয়ায় মিঠা পানির গভীর-অগভীর নলকূপে পানির স্তর বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, গত বছর কুতুবদিয়ায় নলকূপের পানি দিয়ে প্রায় ৫শ একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবছর এ সংখ্যা আরও বাড়ছে, নলকূপের পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাষিরা নলকূপ স্থাপন করে লবণ উৎপাদন করছে। প্রান্তীক চষীদের ব্যয় কমানোর জন্য নলকূপের সেজ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য বিসিক কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page