Sunday, February 25, 2024

সেন্টমার্টিনে মধ্য রাতে দেখা মিলছে ‘জল জোনাকি’

নোমান অরুপ :

রাতের আকাশ থেকে তারা খসে পড়লো সাগর পাড়ে, লোনাজলের স্পর্শ পেয়ে উজ্জল তারা গুলো যেনো আরো প্রাণ ফিরে পেয়েছে! কী অবাক হচ্ছেন ! অবাক হওয়ারই কথা। এমনই দৃশ্যের দেখা মিলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সমুদ্র পাড়ে।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা মিলছে এমন কিছু ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম বিচে রাতের বেলায় দেখা মিলছে জোনাকি পোকার সাদৃশ্য নীলচে আলোর বিচ্ছুরণ।

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ শওকত টিটিএন’কে জানান, ছবিটি রাত ২টার দিকে তোলা, প্রবালদ্বীপের গলাচিপা নামক স্থানের পশ্চিম সৈকতে ‘জল জোনাকি’ নামক এই নীলছে আলো দেখা যাচ্ছে। যা ঢেউয়ের সাথে সাথে সাগর পাড়ে আঁচড়ে পড়ছিলো। যেখানে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।

মূলত সাগর পাড়ে আঁচড় পড়া নীলচে আলো সাদৃশ্য জিনিস গুলো কী? এনিয়ে টিটিএন প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়ছিলো দেশের প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের সাথে।

সমুদ্র বিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার জানান, নীলচে আলো মত বিষয়টি মুলত “বায়োলুমিনেসেন্স”।
বায়োলুমিনেসেন্স হলো এক প্রকার শীতল আলো যা কোনো জীবন্ত জীবের দেহ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। যে সমস্ত জীব বায়োলুমিনেসেন্স তৈরিতে সক্ষম তাদেরকে বায়োলুমিনেসেন্ট জীব বলা হয়।

তিনি আরো জানান, বায়োলুমিনেসেন্স তৈরী হতে হলে বিশেষ কিছু জীবদেহের লুসিফেরিন এবং লুসিফেরেজ নামে দুই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ একত্রিত হয়। প্রোটিন লুসিফেরেজ অনুঘটক হিসাবে কাজ করে, লুসিফেরিনকে বেঁধে রাখে এবং এর জারণকে সহজতর করে, যার ফলে শক্তি বা আলো উৎপন্ন হয়। সেন্টমার্টিনের এই বায়োলুমিনেসেন্স জু-প্লাংকটন,ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।

সমুদ্র বিজ্ঞানী বেলাল হায়দার আরো জানান, বায়োলুমিনেসেন্স তৈরী করে এমন কিছু সামুদ্রিক জীব হলো-ব্যাকটেরিয়া,ছত্রাক,স্কুইড,জেলিফিশ,
ফায়ারফ্লাই,গ্যাস্ট্রোপোড,ছোটবড় বিভিন্ন মাছ সহ খুব অল্প সংখ্যক হাঙ্গর যারা সমুদ্রের এমন গভীরতায় বসবাস করে যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারেনা।

তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের সৈকতের গভীরতা কম এবং জীব দ্যুতি ছড়াতে পারে এমন সামুদ্রিক জীব সমুদ্রের গভীরতায় বাস করে সেহেতু আমাদের সৈকতে সচরাচর দেখা যায়না। তবে তাপমাত্রা ঘনত্ব ইত্যাদি কারণে সমুদ্রের নীচের পানি উপরে উঠে এলে জীব দ্যুতি বা বায়োলুমিনেসেন্ট বৈশিষ্ট সম্পন্ন ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক উপরে উঠে আসে এবং ঢেউয়ের সাথে সৈকতে আছরে পড়লে তা আমাদের দৃশ্যমান হয়। বিশ্বের বিভিন্ন সাগর মহাসাগরের সৈকতে রাতের বেলায় বায়োলুমিনেসেন্সের অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের শেষ স্থান সেন্টমার্টিন দ্বীপের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকনের ও ভ্রমণের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা।

দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে (অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত) দ্বীপটি কর্মচঞ্চল থাকে। প্রকৃতি উজাড় করে দিয়েছে সেন্টমার্টিনকে তবে প্রতিনিয়ত নিয়ম না মেনে ইট কংক্রিটের স্হাপনা নির্মাণ অতিরিক্ত পর্যটকের ফলে দিন দিন হুমকির মুখের দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। যা রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া জানুয়ারিতেও বেশ কয়েদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে নেটিজেনের মাঝে সৃষ্টি হয় কৌতূহল।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page