Sunday, February 25, 2024

তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্তে গোলাগুলি কমলেও রয়ে গেছে ‘ক্ষত’

আব্দুর রশিদ মানিক:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকার পশ্চিমকুলের বাসিন্দা মীর আহমদ (৭০)। সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারী) যখন মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছিলো হঠাৎ তখন তাঁর বাড়িতে এসে পড়ে মর্টার শেল। বিকট শব্দে তখন পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিলো। বাড়িটি ইটের হওয়ায় দেওয়াল কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিটিএন-কে ভয়ঙ্কর সেদিনের কথা বলছিলেন মীর আহমদ।

গতকাল শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) তার ছেলের স্ত্রী রাজিয়া বেগম মিয়ানমারের রাইট ক্যাম্প সংলগ্ন এপারে তাদের ধানক্ষেতে কুড়িয়ে পেয়েছে একটি রকেট লঞ্চার। রকেট লঞ্চারটি ক্ষেত থেকে নিয়ে এসে তাদের খাটের নীচে রেখেছিলেন। পরে আবার রকেট লঞ্চার জানতে পেরে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে রকেট লঞ্চারটি। বিজিবি রাস্তার পাশে রেখে চারিদিকে লাল পতাকা টাঙািয়ে দিয়েছে। সরিয়েছে স্থানীয়দের।

মীর আহমদ বলেন, এখন গোলাগুলি কমলেও আমাদের ধানক্ষেত, বাড়িঘরের আশপাশে ভারি গুলি পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো যদি বিস্ফোরিত হয় তাহলে তো আবারও মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটবে। আমাদের নতুন আতঙ্ক এখন ভারি গোলাবারুদ। আমার সীমান্ত লাগোয়া আড়াই একর ধানক্ষেত আছে এখন সেখানে যেতেও ভয় পাচ্ছি।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) ভোরে সবজি ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে কুড়িয়ে পেয়েছে আরও একটি রকেট লঞ্চার। রকেট লঞ্চারটি বিজিবি উদ্ধার করে তুমব্রু বিওপির সামনে রাস্তায় রেখেছে এবং লাল পতাকা টাঙিয়ে সড়কে চলাচল বন্ধ করেছে।

হালিমা বেগমের সবজি ক্ষেত রাইট ক্যাম্প লাগোয়া। দূরত্ব হবে প্রায় রাইট ক্যাম্প থেকে ২৫/৩০ মিটার দূরে। হালিমা টিটিএন-কে বলেন, আমি নামাজ পড়ে আমার সবজি ক্ষেতে কাজ করছিলাম হঠাৎ একটি লোহার মতো জিনিস পেয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। বিজিবিকে খবর দিলে রাস্তার পাশে রাখতে বলে। আমি মর্টার শেল জানতে পেরে অনেক ভয় পেয়েছিলাম। যদি বিস্ফোরিত হত তাহলে তো মরে যেতাম।

এর আগে বৃহস্পতিবার আরেকটি মর্টার শেল পায় এক স্থানীয়। পরে শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট মর্টার শেলটি বিস্ফোরিত করে।

ফকিরাঘোনার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামশুর রহমান (৪৩) টিটিএন-কে বলেন, আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন গুলি এবং মর্টার শেলের দাগ। কোথায় না কোথায় গুলি এবং মর্টার শেল পড়ে আছে বুঝাও যাচ্ছে না। যদি বিস্ফোরিত হয় তাহলে তো বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ টিটিএন-কে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল পাওয়া গেছে। এর আগে গত সোমবার জলপাইতলী গ্রামে একটি মর্টার শেল পড়ে দুজন নিহত ও একজন আহত হন। একের পর এক মর্টার শেল পাওয়া যাওয়ায় আতঙ্ক কোনোভাবেই কমছে না। নতুন আতঙ্ক এখন অবিস্ফোরিত মর্টার শেল।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page