Sunday, February 25, 2024

বান্দরবান-কক্সবাজার সীমান্ত শান্ত, আতঙ্ক কাটেনি সীমান্ত জনপদে

আব্দুর রশিদ মানিক:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে সকাল থেকে কোন মর্টার শেল বা গোলাগুলির শব্দ শুনা যায়নি। বলা যায় সকাল থেকে শান্ত সীমান্তের পরিস্থিতি। কিন্তু শান্ত থাকলেও সীমান্ত জনপদের মানুষের মাঝে কাজ করছে অজানা এক আতঙ্ক। আতঙ্ক নিয়েই মাঠে যাচ্ছে কৃষকেরা। রাস্তাঘাটে বেড়েছে মানুষের চলাচল।

শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে নাইক্ষংছড়ির তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে কোন গোলাগুলির শব্দ শোনতে পায়নি স্থানীয়রা।

তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্তে গেলো দু’দিন ধরে পাওয়া যায়নি কোন গোলাগুলির শব্দ। আশ্রয় কেন্দ্র এবং আত্মীয়ের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া আতঙ্কিত মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

মিনোয়ারা বেগম (৫৬) ঘুমধুম সীমান্তের পরিস্থিতি খারাপ হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান উখিয়ার আত্মীয়ের বাসায়। গোলাগুলি কমে যাওয়ায় সকালে বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তিনি বলেন, যখন বেশি গোলাগুলি হচ্ছিলো ভয়ে উখিয়া মেয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে ছিল বাড়ি পাহারা দিতে। ছেলে বলেছে গোলাগুলি হচ্ছে না বাড়িতে চলে আসতে তাই আসলাম। আজকে সকাল থেকে কোন গোলাগুলি হচ্ছে না।

মিনোয়ারা বেগমের ছেলে ছিদ্দিক আকবর বাবু (৩৫) বলেন, দু’দিন ধরে গোলাগুলি হচ্ছে না। সীমান্তের ওপারে একেবারেই শান্ত। আমার ১০ সদস্যের পরিবারের আমি ছাড়া বাকিরা সবাই বোনের বাড়িতে চলে গিয়েছিলো। আজকে ফিরেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক কিন্তু বলা যায় না আবার কখন গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়।

তুমব্রু সীমান্তের নয়াপাড়ার বাসিন্দা মোক্তার আহমদ (৪০) বলেন, আমার পুরো পরিবার উখিয়ার বালুখালী চলে গিয়েছিলো নয়াপাড়ায় কোন গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে না তাই বাড়িতে কালকে ওরা ফিরেছে। এখন সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে আমরা সবাই ভয় পাচ্ছি।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে কয়েকটি জায়গায় গতরাতে থেমে থেমে গোলাগুলি হয়েছে। সারাদিন গোলাগুলি বন্ধ থাকার পর আবারও পর পর ৩০/৩৫ রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং এর উনচিপ্রাং সীমান্তের উপারে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এপারের স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতে উখিয়ার রহমতেরবিল সীমান্তে একটি অজ্ঞাত মরদেহ পড়ে আছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন।

উনচিপ্রাং সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, গতরাতে হঠাৎ ৩০/৩৫ রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছিলো। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম। রাতে থেমে থেমে গোলাগুলি হলেও সকাল থেকে কোন গোলাগুলি হয়নি।

উখিয়ার পালংখলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড রহমতেরবিলের ইউপি সদস্য আলতাছ আহমেদ বলেন, আমার এলাকাটিতে দু’তিনদিন থমথমে পরিস্থিতি। দু’দিন আগে ১৩৭ জন পার হল। সেদিন মুহূর্মুহু গোলাগুলি হয়েছে। কালকে ভোরে গোলাগুলি হলেও সারাদিন গোলাগুলি হয়নি। আজকে সকাল থেকেও কোন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটেনি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page