Monday, February 26, 2024

সীমান্ত এলাকার সকল নারী-শিশু ঘরছাড়া, রাতভর আতঙ্ক

আব্দুর রশিদ মানিক, ঘুমধুম সীমান্ত থেকে…

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ছিদ্দিক আকবর বাবু (৩৫)। ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস তাদের। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে ঘরছাড়া পুরো পরিবারের মানুষ। ১০ জনের মধ্যে তিনজন নারী এবং ১ জন শিশুসহ বাবু ছাড়া কেউ নেই আর।

মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় বাবু বলেন, সীমান্তে অস্থিরতার কারণে আমার পরিবারের সবাই উখিয়া বোনের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। শুধু আমি বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য বাড়ির আশেপাশে আছি। আমিও শঙ্কিত কখন না কখন মর্টার শেল বা গুলি এসে পড়ে।

ঘুমধুম সীমান্তের নয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর (৩৫) ৫ সদস্যের পরিবারে ২ জন নারী ২ শিশু রয়েছে। তারা চলে গেছে আলীর শশুরবাড়ি উখিয়ায়।

মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের পাড়ায় ৬০/৭০ টি পরিবার আছে। একটি পরিবারেও নারী এবং শিশু নেই। সবাই দূরদূরান্তের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। আমরা খাবারদাবারও খেতে কষ্ট হচ্ছে। বাসায় রান্না হয়না দুদিন।

বাবু এবং আলীর পরিবারের মতো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার প্রত্যেকটি পরিবারের অবস্থা একই। সবগুলো পরিবার নারী এবং শিশু শূন্য। এমনকি অনেক বাড়িঘর তালা দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে অনেকেই। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো সীমান্ত জনপদে।

নশাপাড়ার আরেক বাসিন্দা মোক্তার আহমদ (৪০) বলেন, আমার বাড়িতে ৭ সদস্যদের মধ্যে আমি ছাড়া বাকি সবাই উখিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। আমরা খাবারদাবার নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। সরকার থেকেও কোন সহযোগিতা করা হয়নি।

এদিকে সীমান্তের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা চলছে বাংলাদেশ সীমান্তে। আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২ টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান করব আপনারা সীমান্ত এলাকার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যান। আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথেেও কথা হয়েছে যদি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় তাহলে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাব।

তিনি জানান, বান্দরবান সীমান্ত এলাকার ২৪০ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তারমধ্যে ১৫০ পরিবার বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। বাকি যারা আছে তাদের অনুরোধ করছি নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য।

এদিকে রাত বাড়লেই সীমান্ত এলাকা জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। এখনো পর্যন্ত মাঝখানে ওপার থেকে গুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে। আজকে নাইক্ষ্যংছড়ি অংশে গুলাগুলির শব্দ কম শুনা গেলেও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে সকাল থেকে বৃষ্টির মতো গুলাগুলি এবং মর্টারের আওয়াজ শুনা গেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page