Sunday, February 25, 2024

বিলাসবহুল জাতিসংঘ কিভাবে শরনার্থী অনুপ্রবেশের কাজ করছে?

একটা নির্দিষ্ট দেশ, যেইটা উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে ঠিক সেই দেশে গিয়ে জাতিসংঘ ঘাঁটি স্থাপন করবে এবং বিভিন্ন ভাবে মানবাধিকার কে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে ঐ উদীয়মান দেশকে মাঝে মাঝে বিব্রত করাবে কারণ তারা জানে ঐ দেশ কখনো এই বিষয়ে জাতিসংঘের সাথে তর্কে যাবে না। কারণ ঐ দেশের চিন্তা হচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উঁচু শ্রেণীতে নিয়ে যাওয়া। এবং ঐ দেশ যদি জাতিসংঘের সাথে তর্কে যায় তাহলে বৈশ্বিক ভাবে তাদের মূল্যায়ন হারাবে, ফলাফল দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমবে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান কমবে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ।

এখন জাতিসংঘ ঘাঁটি করবে কিন্তু এতো বড় বহর চালাবে কেমনে তাদের তো আর রেভিনিউ নাই। হা, তারা এখন দেখবে ঐ দেশের পাশের দেশে যে কোন ভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করানো, তারা আগে থেকেই এমন উদীয়মান অর্থনীতির দেশে ঘাঁটি স্থাপন করবে যার পাশের দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই, পাশাপাশি গৃহযুদ্ধ বিরাজমান: বিভিন্ন জাতি ও উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে। উদাহরণস্বরূপ মায়ানমার।

জাতিসংঘ ঘাঁটির দেশে বসে অস্থিতিশীল দেশের পরিস্থিতি উন্নয়নে তথাকথিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন গঠন করবে এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে থাকবে ফলে অস্থিতিশীল দেশের সাধারণ মানুষ উক্ত কমিশনের রিপোর্টের আলোকে অধিকার নিশ্চিতে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাবে। এমতাবস্থায় অস্থিতিশীল দেশের সরকার তার নিজের নাগরিকদের উপর দমন পীড়ন চালাবে যার ফলস্বরূপ দমন পীড়িত নাগরিক নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পাশের দেশের স্থল সীমান্তে এসে জড়ো হবে অনুপ্রবেশ করার প্রত্যাশায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও শরনার্থী সংস্থা উদীয়মান অর্থনীতির দেশের সরকারের প্রতি আবেদন জানাবে স্থল সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য এবং মনে করিয়ে দেবে শরনার্থী কনভেনশন আইন। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ তার দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ ঠিক রাখতে স্থল সীমান্ত খুলে দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বরন করে নিবে।

জাতিসংঘ এভাবেই দীর্ঘমেয়াদি প্লানিং করবে এবং এই সফলতা অর্জন করবে। অন্যদিকে উদীয়মান দেশ জেনে শুনেই পঁচা শামুকে পা দিবে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন এর রিপোর্ট হলো, ঐ দেশে অস্থিতিশীল তৈরি হলো, শরনার্থী পেল এবার দরকার ঘাঁটি পরিচালনা করার জন্য অর্থ। এবার বিশ্বের বাঘা বাঘা নামকরা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানাবে শরনার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ দেখাতে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করতে। এর পর জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বের সকল দেশ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবে অন্যতায় মানবাধিকার বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করবে, বিশেষ করে শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর আশংকা রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হবে।

পৃথিবীর সকল দেশের মানবাধিকার সংগঠন গুলো জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্তা কে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। এবার ঘাঁটি পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হবে, দামি দামি গাড়ি ক্রয় করা হবে, ফাইভ স্টার হোটেলে বিভিন্ন সেমিনার ওয়াকসপ অনুষ্ঠিত হবে। এভাবেই বিলাসবহুল জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা তাদের উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে। অন্যদিকে শরনার্থীরা শরনার্থী থেকে যাবে এভাবে একটা প্রজন্ম শেষ হওয়া পর্যন্ত শরনার্থীরা তার নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে। পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আর কোন ভালোবাসা অবশিষ্ট থাকবে না তার নিজের দেশ ও‌ পতাকার জন্য। এভাবেই একটা জাতির মৃত্যু হয়, শরনার্থী শিবিরের শিকলে আবদ্ধ হয়ে।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
[email protected]

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page