Monday, March 4, 2024
spot_img

খুটাখালীতে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাবাড় হচ্ছে বন

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ :

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ূন আহমেদ এবং বিট কর্মকর্তা ফজলুল কাদের চৌধুরীর মধ্যে চলে আসা অভ্যন্তরীন কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করছে। দুই কর্মকর্তার এমন কর্মকান্ডে বিব্রত স্থানীয় জনসাধারণ সহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা। উদ্ভট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি পাহাড় কাটার অভিযানে গিয়ে বন খেকোদের হেনস্তা ও নাজেহালের শিকার হয়েছে বিট কর্মকর্তাসহ কয়েকজন ফরেস্ট গার্ড। ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি উল্টো পাহাড় কর্তনকারীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিট কর্মকর্তাকে ধমক দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে আসার নির্দেশ দেন। নিরুপায় হয়ে বিট কর্মকর্তা ফজলল কাদের চৌধুরী তার দলবল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অফিসে ফিরে আসে।এমন ঘটনার পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও সূদুর প্রসারী হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হেডম্যান, ভিলেজার, ফরেস্ট গার্ড।প্রাপ্ত তথ্য ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ ও বিটের আওতাধীন খুটাখালী ইউনিয়নের গোদার ফাঁড়ি অরি হলা নামক স্থানে বন বিভাগের জমি থেকে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে ৬নং ওয়ার্ডের জনকর পাড়া এলাকার মৃত বশির আহমেদ ড্রাইভারের ছেলে ইকবাল, মোহাম্মদ আলী লিটন ও ইব্রাহিম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ণিত স্থান থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ৩ কানি, ১২০ শতক জমি থেকে পাহাড় এবং টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে সিন্ডিকেটটি। একই সাথে মাটি কেটে সমতল করে পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করেছে তিন সহোদর। পোল্ট্রি ফার্মের কার্যক্রম শুরু হলে মুরগির বিষ্ঠার গন্ধে বসবাস করতে হবে স্থানীয়দের। স্থানীয় আবদুল হক, নুরুল আমিনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানায়, রাতের বেলায় ৬/৭ টি ডাম্পার দিয়ে পাহাড় কেটে বিভিন্ন ভরাট কাজে বিক্রি করে আসছে। প্রতিনিয়ত ভারি যানবাহন চলাচল করায় গ্রামীণ জনপদের সড়ক গুলো বিনষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তাদের ব্যবহৃত সড়ক গুলোর অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে বলেও জানান তারা।তারা আরও বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে ভয়াবহ পাহাড় কাটলেও স্থানীয় ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন আহমেদের যোগসাজশে বন খেকোরা ধরা কে সরা মনে করে দিব্যি পাহাড় কর্তন করে আসছে।এ ক্ষেত্রে হুমায়ুন আহমেদের নিরব ভূমিকায় ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের।যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য দিনদিন বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হেডম্যান জানায়, রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ূন আহমেদ ফুলছড়ি রেঞ্জে যোগদানের পর থেকে পাহাড় কাটা, গাছ কাটা, সামাজিক বনায়নের প্লট দখল, গাছ চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে । তাছাড়া ৪ টি বিটের জুনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বদলীর হুমকিসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। কোনো বিট কর্মকর্তা জরুরী কোনো অভিযানে গেলে উল্টো শাসায় বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় পাহাড় খেকো, বনদস্যুদের সঙ্গে তার দহরমমহরম সম্পর্ক থাকায় কোনো বিট কর্মকর্তা অভিযান করতে পারে না। কয়েকদিন আগে খুটাখালী ইউনিয়নের গোদার ফাঁড়ি অরি হলা নামক স্থানে প্রভাবশালীদের পাহাড় কাটা অভিযানে গেলে নাজেহাল ও হেনেস্তার শিকার হয় বিট কর্মকর্তা ফজলুল কাদের চৌধুরী। জানা গেছে, ওই পাহাড় কর্তনকারীদের সঙ্গে মোটা অংকের টাকার দফারফা করেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদ। তার কারনেই বিট কর্মকর্তাকে নাজেহাল ও হেনেস্তা করার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বেপরোয়া গতিতে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে সিন্ডিকেটটি। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করার অভিযোগে স্পেশাল টিমের সদস্যরা মহাসড়ক থেকে কয়েকটি ডাম্পার জব্দ করলেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এই রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। রিজার্ভ জমির পাহাড় টিলা কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন মোঃ ইব্রাহিম বলেন, জায়গাটি তাদের ১৯৯৪ সালে দলিল মুলে ক্রয় করা। পাহাড় কাটার বিষয়টি সত্য নয়, টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে। । মোঃ ইব্রাহিম আরো বলেন, জমিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সার্ভে করে কোনো প্রমাণ পায়নি। ‘খতিয়ান ভুক্ত জমি থেকে পাহাড় কাটা পরিবেশ এবং বন আইনের অপরাধ’ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করা চেষ্টা করেন। অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদ এবং বিট কর্মকর্তা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শীতল পাল বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি। দুই বন কর্তার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অপকর্মের বিষয়ে জানতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা(ডিএফও) আনোয়ার হোসেন সরদারের মুঠোফোনে কয়েকবার রিং করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পাহাড় কেটে বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page