Monday, February 26, 2024

সেন্টমার্টিনে একের পর এক স্থাপনা, পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট

আইনের তোয়াক্কা না করেই দেদারসে স্থাপনা গড়ে উঠছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) মতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩ টি এলাকার (ইসিএ) একটি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ইট পাথরের স্থাপনা সরকারের ঘোষিত মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়াকে আরো সংকটময় করে তোলছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই দ্বীপে একের পর এক অবকাঠামো তৈরি হয়ে আসছে। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তে এরূপ ১২ টি স্থাপনা নিমার্ণের সত্যতাও পেয়েছে। সেন্টমার্টিনে নিমার্ণাধীন ওই ১২ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারি মামলাও দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবকাঠামো নিমার্ণ ও সরকারের আদেশ অমান্য করার দায়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় ১২ প্রতিষ্ঠান ও মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হল, ট্রফিকানা বিচ রিসোর্ট এর মালিক শেখ ফরহাদ, জলকুটি রিসোর্টের মালিক ড.মমি আনসারি, দক্ষিণা হাওয়ার মালিক ফেরদৌস সাগর, আরণ্যক ইকো রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ খাইরুল আলম, মেঘনা বিচ ভিউ রিসোর্টের মালিক মোশারফ হোসেন, ডিঙ্গি ইকো রিসোর্টের মালিক মো. মোবাশ্বির চৌধুরী, জল কাব্য রিসোর্টের মালিক চপল কর্মকার ও চঞ্চল কর্মকার, গ্রীন বিচ রিসোর্টের মালিক আজিত উল্লাহ, সূর্য স্নানের মালিক ইমরান, সান্ড এন্ড সেন্ড টুইন বিচ রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজুল ফরহাদ, নোঙর বিচ রিসোর্টের মালিক সাজ্জাদ মাহমুদ, নীল হওয়ার মালিক আবদুল্লাহ মনির।

ইসিএ আইন মতে, এই দ্বীপে এমন কোন কাজ করা যাবে না যেখানে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে। এখানে কোন প্রকার অবকাঠামো নিমার্ণও করা যাবে না। তার সাথে যুক্ত হয়েছে ২০২২ সালে সরকার ঘোষিত একটি প্রজ্ঞাপন। যে প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী এখানে ইট-সিমেন্ট আনাই নিষিদ্ধ। শুধু বাঁশ-কাঠ দিয়ে ইকো-ফ্রেন্ডলি অবকাঠামো করা যেতে পারে। কিন্তু ঘটছে তার উল্টো।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদি হয়ে দায়ের করা মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে লিপিবদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মামলার বাদি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়ার পর এই ১২ প্রতিষ্ঠানের ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, সেন্টমার্টিনে ইসিএ’তে স্থাপনা নিষিদ্ধ হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সেখানে একপ্রকার বাধাহীনভাবে স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। প্রকাশ্যে টেকনাফ থেকে নেয়া হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। এরপর একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। নোটিশ এবং ক্ষেত্রবিশেষে মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন। মুলত সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ থেমে নেই।’ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনের কঠোর প্রয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page