Sunday, February 25, 2024

সীমান্তের ওপারে উড়ছে হেলিকপ্টার, মিয়ানমারে কি হচ্ছে?

শামীমুল ইসলাম ফয়সাল, তুমব্রু থেকে ফিরে :

বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ আবারও বেড়েছে। এ সংঘর্ষের জের ধরে জান্তা বাহিনী রাখাইনের সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের তুমব্রু’র কাছাকাছি মিয়ানমারের রাখাইনের তুমব্রু ও মেধাই এলাকায় হেলিকপ্টার মহড়া দিচ্ছে।

রবিবার (২৮ জানুয়ারী) দুপুর ২টা নাগাদ বেশ কয়েকটি
হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকায় মহড়া দিয়েছে। বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার থেকেই স্পষ্ট হেলিকপ্টার উড়তে দেখেছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় কোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক জানান, রবিবার দুপুর ১টার পর তুমব্রুর কোণার পাড়া, ভাজাবনিয়া এবং তুমব্রু বাজার থেকেই ওপারে হেলিকপ্টার মহড়া দিতে দেখা গেছে, অন্তত ২৫ মিনিটেরও বেশি সময় হেলিকপ্টারটি চক্কর দিতে থাকে এবং এ সময় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দও শোনা গেছে।

মোঃ মোজাম্মেল জানান, মিয়ানমারের অভ্যান্তরে প্রায় সময় গোলাগুলি হয় এবং গোলাগুলির শব্দে বাড়ির আশপাশ কেঁপে উঠে, অনেক সময় ঘুমন্ত শিশুরাও ঘুম থেকে জেগে উঠে।

তুমব্রু’র স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২২ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলমান থাকলেও  বছরের শেষ সময়ে ডিসেম্বরে হঠাৎ বেড়ে যায় সংঘর্ষ এবং প্রতিদিন গোলাগুলির ভারি শব্দ শোনা যায়।

তবে সীমান্তের তুমব্রু অংশে এখনো গোলাবারুদ না পড়লেও টেকনাফ সীমান্তে বাংলাদেশের নলবিনয়া গ্রামে গোলাবারুদও মর্টারশেল পড়েছে। রোববার বিজিবি জানিয়েছে এখন পর্যন্ত ১৩ টি মর্টার শেল ও একটি গুলি এসে পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে। যার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশকে।

°কেনো অস্থির সীমান্তের মিয়ানমার অংশ?

গত ১৬ জানুয়ারী বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সম্প্রতি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এই অঞ্চলটির নাম পালেতোয়া, যেটি মিয়ানমারের চিন রাজ্যে অবস্থান। এই জায়গাটির দূরত্ব বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটারের মতো।

মিয়ানমারের যে তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আরাকান আর্মি। গেলো বছরের নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির শান রাজ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুরো দেশই ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মির প্রভাব এখন বাড়তে শুরু করেছে। রাখাইন অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে আরো সাত বছর আগে। কিন্তু সেই সংকট সমাধানের কোন কূলকিনারা হচ্ছেনা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মির কর্তৃত্ব যত বাড়বে ভূরাজনীতি তত বেশি জটিল হবার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তাদের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে, ফেডারেল রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে একরকম স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন। রাখাইন অঞ্চলে জান্তা সরকারের কর্তৃত্ব দুর্বল করে আরাকান আর্মির প্রভাব বাড়তে থাকলে সেটি রোহিঙ্গা সংকটের জন্য ‘শাঁখের করাত’ হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

প্রতিবেদনটিতে দেশের অন্যতম নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাখাইন অঞ্চলে জান্তা সরকারকে হটিয়ে দিয়ে আরাকান আর্মি যদি শক্ত অবস্থান নেয় তাহলে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক যে কোনও কিছুই হতে পারে।

আরাকান আর্মি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, অবশ্য আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান গঠিত হয় ২০০৯ সালে।

আরাকান আর্মি কখন সামরিক তৎপরতা শুরু করে সেটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে ধারণা করা হয় ২০১৫ সাল থেকে পালেতোয়া টাউনশিপ এলাকায় তাদের সামরিক তৎপরতা দেখা যায়।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page