Sunday, April 14, 2024

সংসদে হুইপের কাজ কী; কী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন কমল!

টিটিএন ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী, চিফ হুইপ পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন আর হুইপ ভোগ করেন প্রতিমন্ত্রীর। সেই হিসেবে এমপি কমল একজন প্রতিমন্ত্রীর সুযোগ সুবিধা পাবেন।

চলুন জেনে নেয়া যাক, চিফ হুইপ ও হুইপদের কাজ এবং তাদের সুযোগ-সুবিধাসমূহ।

চিফ হুইপ ও হুইপের কাজ

চিফ হুইফ হলেন সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র। চিফ হুইপের সঙ্গে কয়েকজন হুইপ থাকেন। তারা সবাই সংসদ সদস্য। চিফ হুইপ ও হুইপের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
হুইপের দায়িত্বের মধ্যে আরও রয়েছে- নিজ দলের সদস্যদের পার্লামেন্ট বা আইনসভায় নিয়মিত হাজির করার ব্যবস্থা করা। সংসদে কোনো বিল উত্থাপিত হলে দলীয় সব সদস্যরা যেন দলের পক্ষে ভোট দেন তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপ
চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদটি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদার। এতে বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তিনি একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন বাহক, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পান। এছাড়া আটজন পুলিশ সদস্য, দুজন গানম্যান সুবিধা দেওয়া হয় তাকে। গাড়ির সুবিধাও পেয়ে থাকেন বিরোধীদলীয় নেতা। মন্ত্রীদের মতো বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি বাসা পেয়ে থাকেন। সেই বাসার যাবতীয় খরচ সরকার থেকে। এছাড়া হুইপ একজন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। তিনি প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

বেতন ও বাড়িভাড়া
একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীর বেতন ৯২ হাজার ও উপমন্ত্রীর ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন মন্ত্রী সরকারি ব্যয়ে একটি সুসজ্জিত বাসভবন পান বিনাভাড়ায়। প্রতিমন্ত্রী একই সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে মন্ত্রী যদি সরকারি বাড়িতে না থেকে নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাহলে সরকার থেকে তিনি মাসিক ৮০ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পাবেন। প্রতিমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা করে। এছাড়া নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা পাবেন তারা।

উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা নিরীক্ষামুক্ত
নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রীকে বছরে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খাতে প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে ৭ লাখ ও উপমন্ত্রী পাবেন ৫ লাখ টাকা করে। এ টাকার মধ্যে মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারেন ৩৫ হাজার আর উপমন্ত্রী ২৫ হাজার টাকা। এলাকার উন্নয়নে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের এই টাকার কোনো নিরীক্ষা হয় না। ফলে এ টাকা খরচে অনেকটা উদার থাকেন তারা।

আপ্যায়ন ভাতা
মন্ত্রী হওয়ার পর তার দপ্তরে দেশি-বিদেশি অনেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। নির্বাচনি এলাকার মানুষও দেখা করতে আসেন মন্ত্রীর সঙ্গে। তাদের আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে পান। এ খাতে প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ হাজার টাকা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বছরে বিমাসুবিধা পাবেন ১০ লাখ টাকা।

চিকিৎসা খরচ
মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাঁর পুরো চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রে বলা আছে, চিকিৎসা খরচ সীমাহীন। সরকার তাঁর পুরো চিকিৎসার খরচ দেবে। তবে খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।

গাড়ি সুবিধা
দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পাবেন। এই গাড়ি পরিবহন পুল সরবরাহ করবে। এছাড়া সরকারি প্রয়োজনে বিশেষ করে নির্বাচনি এলাকায় ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ গাড়ি পাবেন। জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে।

বাড়ি সাজসজ্জা
সরকারি বাড়ি সাজসজ্জা করতে একজন মন্ত্রী প্রতি বছর পাবেন পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিমন্ত্রী পাবেন চার লাখ টাকা করে। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের বাসভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন ব্যয় যা আসবে, সরকার পুরোটাই বহন করবে।

সহায়ক
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। এছাড়া একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন। প্রতিমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন।
এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা একটি করে মুঠোফোন পাবেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপনটি জারি হয়। এতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে মাদারীপুর-১ থেকে নির্বাচিত নূর-ই-আলম চৌধুরীকে নিযুক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি। আলাদা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে আরও পাঁচজনকে হুইপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হুইপ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (নড়াইল-২), ইকবালুর রহিম (৮ দিনাজপুর -৩), আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (৩৫ জয়পুরহাট-২), মো. নজরুল ইসলাম বাবু (২০৫ নারায়ণগঞ্জ- ২) এবং সাইমুম সরওয়ার কমল (২৯৬ কক্সবাজার -৩)।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page