Sunday, February 25, 2024

ক্লাস না করে ২০ বছর ধরে বেতন তোলেন ‘শিক্ষক’ ফরাজি

কাব্য সৌরভ, মহেশখালী

ক্লাস না করে বেতন ভাতা তুলেন রাশেদুল হাছান ফরাজি নামের এক শিক্ষক। তিনি মহেশখালীর শাপলাপুরের জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি ফরিদুল আলমের সহায়তায় ফরাজি দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ এই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকের বেতন ভাতা তুলছেন।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণগঠন ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ এবং স্থাপিত ১ জানুয়ারি ১৯৯৭। ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ এবং ১২ সেপ্টেম্বর ২০০২ পরিদর্শন তদন্ত প্রতিবেদন মতে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন।

২০০৪ সালের প্রতিবেদনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাম উল্লেখ রয়েছে গোলাম কাদেরের। তৎকালিন প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান সভাপতি ফরিদুল আলম যোগসাজশে উভয়কে জীবিত অবস্থায় মৃত দেখিয়ে ২০০৪ সালে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আসেন বর্তমান সভাপতি ফরিদুল আলম।

পরে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেন শিক্ষক প্রত্যয়নে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রাশেদুল হাছানকে। যার নিয়োগ দেখানো হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে। স্কুল এমপিওভুক্তির পর ক্লাস না করেও বিগত ১৮ মাস সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন রাশেদুল হাছান ফরাজি।

ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাজিরার তথ্যমতে সম্প্রতি কয়েকবছর ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ফরাজির উপস্থিতি স্বাক্ষর থাকলেও তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি এর পূর্বে কখনো ক্লাসও করেননি বলে জানান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

গত ২০২২ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির আওতায় আসে। পরের বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পান কাইচার লিটন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষক প্রত্যয়ন থেকে বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৮ জন সহকারী শিক্ষক ও ৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিকে ভূয়া নিয়োগ দেখান বর্তমান প্রধান শিক্ষক কাইচার লিটন। তারমধ্যে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা তোলা ফারাজিও একজন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানায়, আগে ফরাজির বেতন সভাপতির পকেটে গেলেও লিটনের নিয়োগের পর বেতনে ভাগ বসান লিটন। ফরাজির বেতনের অধিকাংশ টাকা যায় সভাপতি ফরিদুল আলম ও প্রধান শিক্ষক লিটনের পকেটে।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক লিটনকে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে ফরাজি মাসের শেষে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যেতেন। পরে এই বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সমালোচনা হলে লিটন ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরাজিকে বিএড ছুটিতে দেখান। খবর নিয়ে জানা যায় ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর বিএড আবেদনের সময় ছিলো না।

এই বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীর দাবি রাশেদুল হাছান ফরাজি মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। একজন এমপিওভূক্ত শিক্ষক অনিয়মিত কেন জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে না পেরে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি ফরিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ হয় মুঠোফোনে। ক্লাস না করেও সহকারী শিক্ষক হিসেবে ফরাজি নামের একজনের বেতন উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা তোলা রাশেদুল হাছান ফরাজির বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কাইচার লিটন বলেন, ‘রাশেদুল হাছান ফরাজি অনুপস্থিত এটি সত্য, কে কোথায় চাকরি করবে তা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমার অবস্থান থেকে আমি তাকে লিখিত নোটিশ পাঠিয়েছি ২২ জানুয়ারি।’

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page