Wednesday, April 17, 2024

উপজেলা নির্বাচন অংশ নেবে না বিএনপি, কৌশল ঠিক করছে আওয়ামী লীগ

টিটিএন ডেস্ক

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর দলের হাইকমান্ড। তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে বিপর্যস্ত নেতাকর্মীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজেদের আত্মরক্ষায়। মামলা-হামলা আর কারা নির্যাতন শেষ করে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। একই সঙ্গে ‘একতরফা ও ডামি নির্বাচন’ বাতিল করে শিগগির নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি।

দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, এ মুহূর্তে আরেকটি নির্বাচনের কর্মযজ্ঞে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা যেমন নেই, তেমনি নতুন করে মামলা-হামলার ক্ষেত্র তৈরি করার ইচ্ছাও নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেমন বিরোধী দলের নেতাকর্মীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়া হয়েছে, তেমনি এসব নির্বাচনেও নেতা ভাগিয়ে নেওয়া, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া এবং প্রলোভন দেওয়া হতে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে দলের হাইকমান্ডের। সে ক্ষেত্রে দলটির সিনিয়র নেতারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সমকালকে বলেন, তারা এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবেন না বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেখানে তারা অটল রয়েছেন। ৭ জানুয়ারির মতো নির্বাচনী খেলায় অংশ নেওয়ার কোনো মানে নেই। এ ধরনের নির্বাচনের বিষয়ে তৃণমূলেরও কোনো আগ্রহ নেই বলে তিনি মনে করছেন।

বিরোধী দল নির্বাচনে এলে দলীয় প্রতীকে ভোট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কৌশল ঠিক করছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের চিন্তাভাবনা চলছে দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের মধ্যে। বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচনে এলে গতবারের মতো এবারও নৌকা প্রতীকে দলীয় প্রার্থী নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীন দলটি। সরকারবিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করলে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন দলের সব নেতার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন দিয়েও অন্য সবার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
তবে সবার আগে সদ্যসমাপ্ত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধে সৃষ্ট সহিংসতাপূর্ণ পরিস্থিতি তথা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কোন্দল মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলায় জেলায় সফর করে এ বিরোধ মেটানো হবে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়েই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাবে আওয়ামী লীগ।

বিএনপিবিহীন জাতীয় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ওই নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ফলে নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী ছাড়াও শতাধিক আসনে স্বতন্ত্রভাবে লড়েছেন দলীয় নেতারা; যার মধ্যে বেশির ভাগ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এমন ‘নির্বাচনী কৌশল’ অনেকটা সফল হলেও দলের মধ্যে ভিন্ন রকম সংকট সৃষ্টি করেছে। দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল নতুন মাত্রা নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের আগে-পরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর এবং সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হওয়া ছাড়াও অনেকেই আহত হয়েছেন।

দলের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ১৫ জানুয়ারি দলের যৌথ সভায় নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘সবকিছু ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার’ আহ্বান জানানোর পর নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ভেতরে ভেতরে দলীয় কোন্দল রয়েই গেছে। যার প্রভাব আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থাতেই বিবদমান সব পক্ষকে দলের মধ্যে এককাতারে নিয়ে আসতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তৃণমূল সফরে যাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তপশিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে রোজার আগে আগামী মার্চে কয়েকটি ধাপের এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আভাস মিলেছে নির্বাচন কমিশন থেকে; যা চলতে পারে এপ্রিল পর্যন্ত। আগামী সপ্তাহেই প্রথম ধাপের প্রায় ১০০ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হতে পারে। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৫টি নির্বাচন যোগ্য হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র :সমকাল

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page