Sunday, April 21, 2024

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

টিটিএন ডেস্ক

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার পর চট্টগ্রামে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন—পেট্রোবাংলা ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল শুক্রবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় ঘটেছে। বিতরণ কোম্পানির আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হঠাৎ বিপর্যয়ে দিনভর ছিল দুর্ভোগ। খাবারের কষ্টে পড়েন সাধারণ গ্রাহকেরা। ব্যাহত হয় শিল্প কারখানার উৎপাদন।

মূলত দেশের পূর্বাঞ্চলে এই বিপর্যয় হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়ে কমপক্ষে সাড়ে ১১ লাখ গ্রাহক। এর মধ্যে কর্ণফুলী বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) আওতাধীন চট্টগ্রাম, বাখরাবাদের কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা রয়েছে। এমনকি ঢাকার পাশের তিতাসের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জও এই সংকটের মধ্যে পড়ে। এসব জেলায় জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি এলএনজির বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম যেহেতু পুরোটাই এলএনজি-নির্ভর, তাই সেখানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অন্য জেলায় কোথাও চুলা জ্বলেনি, কোথাও ছিল মিটমিট। এ ছাড়া বাখরাবাদের আওতাধীন চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম ছিল।

আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। এই দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দিনে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। পাঁচ বছর পরপর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। গত ১ নভেম্বর মার্কিন এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন এক্সিলারেট টার্মিনালটি চালুর চেষ্টা করা হয়। কয়েকবার চালু করলেও গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি। আবার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনালটিও গত বৃহস্পতিবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যাওয়ার কথা ছিল। এ কারণে টার্মিনালটিও খালি করা হয়। তাই গ্যাস সরবরাহও বন্ধ ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল পর্যন্ত মার্কিন টার্মিনাল চালু করতে না পারায় মূলত বিপর্যয় ঘটে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডের গ্যাসের চাপ কম থাকা।

স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া যায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ১ নভেম্বর থেকে ৭০-৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছিল। গতকাল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় এ দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে। অনেক এলাকায় গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক চুলা ও লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সারতে হয়েছে। আবার দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, হামজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে খাবারের হোটেলে ছিল লম্বা লাইন। দুপুরের খাবার অনেকে সেরেছেন বিকেলে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিজিডিসিএলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি গ্যাস জাতীয় গ্রিড থেকে পায় সংস্থাটি। টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে গ্যাস-সংকট তীব্র হয়।

সূত্র- প্রথম আলো

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page