Friday, April 12, 2024

ঘুষ নিয়েছি প্রমাণ নাই: রামুর আনসার কর্মকর্তা আরজিনা

শিপ্ত বড়ুয়া :

কক্সবাজারের রামুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভিডিপির একাধিক সদস্যের কাছ থেকে নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ার নামে ঘুষ হিসেবে ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের আনসার-ভিডিপি দলনেতা আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিডিপির দায়িত্ব নিতে প্রতিজনকে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। সে টাকা উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজিনা আক্তারকে না দিলে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ও দলনেত্রী নুরুনাহার এবং দলনেতা আনোয়ারুল ইসলামের একটি অডিও কথোপকথনে নুরনাহার বলছেন, প্রতিবছর নির্বাচনের দায়িত্ব পেতে আপাকে (আরজিনা আক্তার) টাকা দিতে হয়। প্রতিজনকে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়। প্রতিবছর টাকা দিয়ে আসছি। টাকা না দিলে ঝামেলা করে। এবারেও পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি আপাকে।

নির্বাচনে ভিডিপির দায়িত্ব পালন করা মো: আলম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের ৫ হাজার টাকা করে দিবে বলেছিল। এর জন্য আনসার ও ভিডিপি অফিসে ১ হাজার টাকা করে জমার কথা বলেন উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজিনা আক্তার।

সদ্য সাবেক রামু আনসার-ভিডিপির দলপতি বিপন বড়ুয়া বলেন, আরজিনা আক্তার প্রায় দশ বছর ধরে রামু উপজেলায় চাকরি করছেন। তার দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। তার কারণে আমার বিরুদ্ধে পর্যন্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বারবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে কোন ব্যবস্থায় নেওয়া হয় না।

সূত্র বলছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রতি গ্রুপে ১২জন ৬৪টি গ্রুপে মোট ৭৬৮জন দায়িত্বের মধ্যে প্রতি গ্রুপে ১১ জন করে দায়িত্বে দিয়ে প্রতি গ্রুপ থেকে ১জনের নামে ভূয়া কাগজপত্র বানিয়ে প্রায় ৬৪ জনের ৩,২০,০০০/=টাকা এবং প্রতি গ্রুপের দলনেতা থেকে ৫০০০/= টাকা করে ৩,২০,০০০/= টাকা আত্মসাৎ করেছে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আরজিনা আক্তার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজিনা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন প্রমাণ নেই আমি টাকা (ঘুষ) নিয়েছি। আর আপা বলতে আমি একজন নই। এখানে উপজেলা ও জেলা অন্য অফিসাররাও আছে। পরে আরও প্রশ্ন করা হলেও অফিসে যেতে বলে ফোন কেঁটে দেন।

এর আগে ২০২২সালের জুনে হওয়া দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১ হাজার ৭০০ জন ভিডিপি ও আনসার সদস্যের নিকট থেকে সিকিউরিটি মানির নামে ১ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো আরজিনা আক্তারের নামে। সে সময় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তারা অফিস ঘেরাও করা হয়েছিলো।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page