Thursday, February 29, 2024
spot_img

চকরিয়া-পেকুয়ায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দ ইবরাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পাহাড়ের বুক চিরে নেমে এসে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হওয়া মাতামুহুরীর দুইপাশের অবস্থিত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন। নদী ও সাগরকেন্দ্রীক গড়ে উঠা সভ্যতায় কৃষি, চিংড়ি চাষ, লবণ, তামাক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ই এখানকার মানুষের প্রধান পেশা।
আসন এলাকা হিসেবে সবচেয়ে বড় হলেও এই এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে না উঠায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি। গত ১৫ বছরে সড়ক, সেতু ও স্বাস্থ্যখাতের কিছুটা উন্নয়ন হলেও অন্যখাতগুলোতে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
যে মাতামুহুরীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে সেই মাতামুহুরী নদীই এখন এই এলাকার মানুষের এখন প্রধান দু:খ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খননের অভাব, নদী ভাঙন বা নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের ফলে অভিশাপ হয়ে উঠছে নদীটি। গেল বর্ষায় ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়েছে চকরিয়া পেকুয়ার মানুষ। কর্মসংস্থানের অভাবে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে রাত পেরুলেই নির্বাচন। ঋণ খেলাপীর দায়ে নৌকার প্রার্থী ঝরে গেলেও এই আসনে এখন ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। যদিও নৌকা ঝরে যাওয়ায় এক পা এগিয়ে রেখেছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ হাতঘড়ি প্রতীকের ইবরাহিমের পক্ষে একাট্টা হওয়ায় নি:সঙ্গ হয়ে পড়েছে জাফর।
স্থানীয়রা বলছেন, গত ৫ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়নের দেখা পাননি তারা। দখল, চাঁদাবাজিসহ উল্টো নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন

জাফর স্বতন্ত্র হলেও তিনি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু কয়েকদিন আগে নির্বাচনীয় প্রচারণায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে কথা বলায় তাকে সভাপতির পদ থেতে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কল্যাণ পার্টির ইবরাহিমে একাট্টা হলো কেন?
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা মতে ভোটের মাঠে তারা ইবরাহিমের পক্ষে রয়েছেন। তাছাড়া জাফরের বিরুদ্ধে তারা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন।

জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদি প্রশ্নে ইবরাহিম বলেন, চকরিয়া পেকুয়ার মানুষ তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। এই এলাকার দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধ থেকে মুক্ত হতে চায়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাফরের পক্ষ থেকে তার পক্ষে কাজ করা লোকজনকে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেন। তিনি বলেন, সাধারন মানুষ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে, ডাকাতির বিরুদ্ধে আমাকেই রায় দিবে। দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছি,এবার চকরিয়া-পেকুয়াকে দখলবাজ মুক্ত করবো।

কক্সবাজারে চারটি আসনের মধ্যে চকরিয়া- পেকুয়া আসনকে ঘিরে সবচেয়ে ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা এলাকা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলো নির্ধারণ করেছেন। সেই হিসেবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা সাজানো হয়েছে।
২৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৪৮৬৩০২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬০৫৬৩ জন আর মহিলা ভোটার ২২৫৭৩৯ জন। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কল্যাণ পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের মধ্যে। আর স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, ভোটে র নানান সমীকরণ বলছে শেষ পর্যন্ত সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমই হবেন চকরিয়া-পেকিয়ার এমপি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page