Monday, February 26, 2024

কক্সবাজার-১: একা জাফর, ইবরাহিমই কী ভরসা হচ্ছেন চকরিয়া-পেকুয়ায়?

বিশেষ প্রতিবেদক

নানান নাটকীয়তা আর উত্তেজনার কারনে আলোচনায় কক্সবাজারের চকরিয়া পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনটি। শুরুতে দ্বিধাবিভক্ত এখানকার আওয়ামীলীগে মনোনয়ন নিয়ে চলতে থাকে নানান ঘটনা।

বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন, আর ঋণ খেলাপী হওয়ায় শেষমেশ হাইকোর্টে গিয়েও নিজের প্রার্থীতা ফিরে পাননি নৌকার মনোনয়ন পাওয়া সালাউদ্দিন আহমেদ।

এরপর মোড় ঘুরে গিয়ে আলোচনায় আসে মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। যিনি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে জেলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনও মাঠে নামে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের পক্ষে।

এরপর বিভক্ত আওয়ামীলীগের জাফর বিরোধী শিবির তখন একাট্টা হয়ে নামে ইবরাহিমের পক্ষে। অগোচরে থাকা জাফরের বিভিন্ন অপরাধ একেরপর এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে এসময়ে।

ইবরাহিমের ভোট ব্যাংক তৈরিতে যুক্ত হয় চকরিয়া পেকুয়ার প্রায় ১৫ এর অধিক জনপ্রতিনিধি। পৌর সভার মেয়র আলমগীর, উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন হাতঘড়ি মার্কার হয়ে।

অনেকটা একাই হয়ে পড়েন জাফর আলম। তার সাথে থাকা জনপ্রতিনিধিরাও পূর্বের বিভিন্ন মামলা নিয়ে পড়েন বিপাকে। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কারনে তার কাছ থেকে সরে আসেন সাথে থাকা অনেক নেতাকর্মীও।

শেষমেশ কি হতে পারে চকরিয়া পেকুয়ায়? জানতে চাইলে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ সিআইপি বলেন, যেভাবে এগোনো হয়েছে, আশা করছি হাতঘড়ি এগিয়ে আছে। গত ৫ বছর বর্তমান সংসদ সদস্যের বিভিন্ন অপকর্মের কারনে জনগণ ও দলীয়ে নেতাকর্মীরা নিষ্পেষিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অভিমান আছে। তার সুফল হিসেবে হাতঘড়ির বিজয় হবে।

চকরিয়ার পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত চকরিয়ার মানুষ শান্তি চাইছে। ইবরাহিম সাহেব বাইরের মানুষ হলেও শান্তির জন্য তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উনি সৎ মানুষ। উনার কাছেই এই এলাকার মানুষ নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী মনে করেন চকরিয়া পেকুয়ার মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে এসেছেন। জাফর সাহেবকে আমরা এমপি বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এতো বেশি অপরাধ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটা বুঝতে পেরে এখানে জেনারেল ইবরাহিমকে পাঠিয়েছেন। মানুষও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছে।

তবে জাফর শিবিরে থাকা অনেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি বক্তব্য জানার জন্য।

এদিকে হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, আমাকে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে বীর প্রতীক খেতাব দিয়েছিলেন। আমি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। চকরিয়া পেকুয়ায় আমার বার্তা হচ্ছে- গত কয়েকবছরে এই এলাকায় যেভাবে সন্ত্রাস দখলদারিত্ব ও গরু চুরির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তা থেকে মুক্ত করতে হবে। মানুষ শান্তি চায়। শান্তির জন্য এই আসনের ভোটাররা আমাকে বেছে নিয়েছে। যা ৭ জানুয়ারি প্রমাণ পাওয়া যাবে।

ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম বিভিন্ন পথসভায় বলছেন, তিনি নানা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হচ্ছেন। তারপরও তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

কক্সবাজার-১ এই আসনে আসলেই কী হতে চলেছে? কার ভাগ্যে আসছে আলোচিত এই আসনটি? একদিকে একা জাফর, অন্যদিকে ইবরাহিমই কী ভরসা হচ্ছেন চকরিয়া-পেকুয়ায়? তার জন্য অপেক্ষা ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page