সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগভিত্তিক ভোট বিশ্লেষণে দেশের রাজনৈতিক আচরণে স্পষ্ট আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২৮৬টির ভোটের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারাদেশে মোট ভোটের হিসেবে বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৬০ শতাংশ ভোট এবং ৩১.৯৯ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি পেয়েছে ৩.০৮ শতাংশ এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ১৫.৩৪ শতাংশ ভোট।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে বিএনপি ৫১.৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে জামায়াত পেয়েছে ২২.৩৮ শতাংশ এবং এনসিপি ৫.৭৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগেও একই প্রবণতা দেখা গেছে; এখানে বিএনপি পেয়েছে ৫১.৮৮ শতাংশ এবং জামায়াত ২৮.০১ শতাংশ ভোট। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি একক আধিপত্য দেখা যায়, যেখানে বিএনপি পেয়েছে ৫৯.৫৪ শতাংশ ভোট। ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপি ৫১.৬০ শতাংশ ভোট পেলেও অন্যান্য প্রার্থীদের ২৪.৯২ শতাংশ ভোট স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নির্ভর ভোটের ইঙ্গিত দেয়।
খুলনা বিভাগে চিত্র ভিন্ন। এখানে জামায়াতে ইসলামী ৪৮.২৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপির ৪৩.৫৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক উপস্থিতি ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব এ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজশাহী বিভাগে বিএনপি ৫৩.৮৮ শতাংশ ও জামায়াত ৩৯.৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর রংপুর বিভাগে ব্যবধান খুবই কম—বিএনপি ৪১.৯৫ শতাংশ ও জামায়াত ৩৯.৭৮ শতাংশ। এই দুই অঞ্চলকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনসিপি বেশিরভাগ বিভাগেই এক অঙ্কের ভোটে সীমাবদ্ধ ছিল এবং কয়েকটি বিভাগে প্রার্থী দেয়নি। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে অন্যান্য প্রার্থী ও দলের ভোট ২৮.৮৯ শতাংশ, যা স্থানীয় জনপ্রিয় প্রার্থীদের শক্ত উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সমগ্র ফলাফল বিশ্লেষণে বোঝা যাচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি আবার বড় দুই শক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে, তবে কিছু অঞ্চলে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোট এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভোটের ধরণ ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য, সহ সম্পাদক, টিটিএন।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য 


















