ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বো/মা না টিকা, কোন মৃ/ত্যু বেশি নৃ’শং’স? কক্সবাজারে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এমজেএসিবি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ সংসদে এমপি কাজলের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ্যানি-বাঁকখালী নদী খননসহ কক্সবাজারে ৩ টি প্রকল্প চলমান উখিয়ায় তিন পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা ওমরাহ শেষে মাকে আনতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল কিশোরের, আহত ৩ চকরিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া অধিক মূল্যে তেল বিক্রি করায় জরিমানা: ইয়াবা সেবনে কারাদণ্ড সাগরে ৪ দিন ভেসে থাকা ১৫ জেলেকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী অপহরণচক্রের আস্তানা থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫ চকরিয়ার ছোট্ট দুই বোনের বাড়ি ফেরা হলো না বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ৩ দিন ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস সংসদ থেকে বিরোধীদল সদস্যদের ওয়াকআউট কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৩৮ রোববার থেকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কউকের সেমিনার-কক্সবাজারে সুপেয় পানির পরিমান কমছে নানার বাড়ি এসে পুকুরেডুবে দুই শিশুর মৃ’ত্যু
ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

৮ মাস পেরিয়ে গেলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি

শেখ হাসিনার পতনের পর শাসকের বদল হলেও শাসকের শ্রেণি চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভ্যুত্থানের চেতনা ফিকে হতে বসেছে। অভ্যুত্থানের ৮ মাস অতিক্রম হলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি।

গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ছাত্রসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘কোথাও আঘাত ছাড়া অগ্রসর সূর্যালোক নেই’ স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সভাপতিত্ব করেন। এটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।

সভাপতির বক্তব্যে মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর শাসকের বদল হলেও শাসকের শ্রেণিচরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভ্যুত্থানের চেতনা ফিকে হতে বসেছে। অভ্যুত্থানের ৮ মাস অতিক্রম হলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা৷

শিক্ষা খাতের সংস্কারের কোনো আলোচনা নেই উল্লেখ করে ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, শত শত সংস্কারের আলাপের ভিড়ে শিক্ষা খাতের সংস্কারের কোনো আলাপ নেই। এটি মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি মিলিতভাবে ২০ হাজার সদস্যের গেরিলা বাহিনী নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন লড়াই চালিয়ে এসেছে। ৭৩ বছরের পথচলায় ছাত্র ইউনিয়নকে ধ্বংস করবার বহু প্রচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যারা ছাত্র ইউনিয়নকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালিয়েছে তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে। ছাত্র ইউনিয়ন তার ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব নিয়ে একটি শোষণ-বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মানের লড়াই চালিয়ে যাবে।

ছাত্র সমাবেশের পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশেই প্রাক্তন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন পুনর্মিলনীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই তার নীতি আদর্শ সমুন্নত রেখে তার লড়াই চালিয়ে এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন জুলাই গণ অভ্যুত্থানেও তার স্বকীয় অবস্থা বজায় রেখে লড়াই চালিয়েছে। কিছু ব্যক্তি ছাত্র ইউনিয়নের এই অর্জনকে খাটো করে দেখতে চায়। ছাত্র ইউনিয়ন সব অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যাত করে সমাজ-প্রগতির লড়াই এগিয়ে নেবে।

সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মিহির ঘোষ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, যা মুক্তিযুদ্ধেরও আকাঙ্খা ছিল। তবুও অভ্যুত্থানের পরে মুক্তিযুদ্ধের উপর আঘাত এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন তার নিজস্ব গেরিলা বাহিনী নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। স্বভাবতই ছাত্র ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের এই নীতিনিষ্ঠ অবস্থানকে স্বাগত জানাই।

ছাত্র সমাবেশ শেষে সমাবেশ স্থল থেকে শুরু হয়ে একটি র‍্যালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বো/মা না টিকা, কোন মৃ/ত্যু বেশি নৃ’শং’স?

ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

৮ মাস পেরিয়ে গেলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

শেখ হাসিনার পতনের পর শাসকের বদল হলেও শাসকের শ্রেণি চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভ্যুত্থানের চেতনা ফিকে হতে বসেছে। অভ্যুত্থানের ৮ মাস অতিক্রম হলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি।

গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ছাত্রসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘কোথাও আঘাত ছাড়া অগ্রসর সূর্যালোক নেই’ স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সভাপতিত্ব করেন। এটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।

সভাপতির বক্তব্যে মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর শাসকের বদল হলেও শাসকের শ্রেণিচরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভ্যুত্থানের চেতনা ফিকে হতে বসেছে। অভ্যুত্থানের ৮ মাস অতিক্রম হলেও জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা৷

শিক্ষা খাতের সংস্কারের কোনো আলোচনা নেই উল্লেখ করে ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, শত শত সংস্কারের আলাপের ভিড়ে শিক্ষা খাতের সংস্কারের কোনো আলাপ নেই। এটি মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি মিলিতভাবে ২০ হাজার সদস্যের গেরিলা বাহিনী নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন লড়াই চালিয়ে এসেছে। ৭৩ বছরের পথচলায় ছাত্র ইউনিয়নকে ধ্বংস করবার বহু প্রচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যারা ছাত্র ইউনিয়নকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালিয়েছে তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে। ছাত্র ইউনিয়ন তার ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব নিয়ে একটি শোষণ-বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মানের লড়াই চালিয়ে যাবে।

ছাত্র সমাবেশের পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশেই প্রাক্তন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন পুনর্মিলনীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই তার নীতি আদর্শ সমুন্নত রেখে তার লড়াই চালিয়ে এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন জুলাই গণ অভ্যুত্থানেও তার স্বকীয় অবস্থা বজায় রেখে লড়াই চালিয়েছে। কিছু ব্যক্তি ছাত্র ইউনিয়নের এই অর্জনকে খাটো করে দেখতে চায়। ছাত্র ইউনিয়ন সব অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যাত করে সমাজ-প্রগতির লড়াই এগিয়ে নেবে।

সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মিহির ঘোষ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, যা মুক্তিযুদ্ধেরও আকাঙ্খা ছিল। তবুও অভ্যুত্থানের পরে মুক্তিযুদ্ধের উপর আঘাত এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন তার নিজস্ব গেরিলা বাহিনী নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। স্বভাবতই ছাত্র ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের এই নীতিনিষ্ঠ অবস্থানকে স্বাগত জানাই।

ছাত্র সমাবেশ শেষে সমাবেশ স্থল থেকে শুরু হয়ে একটি র‍্যালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।