ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ : উড়ে গেল কাঠুরিয়ার পা ভিন্ন আবহে আরেকটি ৭ মার্চ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের আহবায়ক কমিটি গঠিত – আহবায়ক: মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব: আরোজ ফারুক ‘আমার মত অনেক মেয়ে আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত’ -লাইলা পরী পেকুয়ায় মা–মেয়ের এক মাসের কারাদণ্ডের অন্তরালে “নব্য জাহেলিয়াত থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই – আনোয়ারী সিবিআইইউতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি রামুতে সরঞ্জাম ও জাল টাকাসহ যুবক আটক সাগরপাড়ে প্রশান্তির ইফতার রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ স্মরণে ফেইম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? আরকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি

রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতি: কক্সবাজারে ঘুরছে জ্বর ও শরীর ব্যথা

পুরো বর্ষা জুড়েই কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে। এখন বর্ষার শেষ সপ্তাহ, মাঝে মাঝে মিলছে তীব্র রোদের দেখা, সঙ্গে বেড়েছে গরমও। আর এই রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতিতে ভাসছে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কক্সবাজারে এখন ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত।

প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে এসেছেন শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা নওরিন সুলতানা।তার স্বামী শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রথমে আমার জ্বর হয়, তারপর আমার স্ত্রী ও সন্তানের হয়েছে। এখন আমি সুস্থ আছি। তবে আমার স্ত্রী তিনদিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে এটা ভাইরাল জ্বর, বেশি পানি খেতে আর বিশ্রাম নিতে হবে”।

একই এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের বাসায় প্রথমে আমি অসুস্থ হই, তারপর আমার ছোট বোন আর মা-ও আক্রান্ত হয়। তিন দিন পর একটু ভালো লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক দুর্বল লাগছে।”

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিপন চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এলাকায় ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক রোগী জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার সমস্যায় আসছেন”।

তিনি আরও বলেন, “এই সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করছেন বা ভিড় এলাকায় যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে”।

এই সংক্রমণের কারণ হিসেবে চিকিৎসক চৌধুরী ধারণা করছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা তার কোনো ভ্যারিয়েন্ট, করোনা ভাইরাস কিংবা ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া।

তবে এসব রোগের চিকিৎসা জটিল নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বারে বারে তরল খাবার গ্রহণ, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। তবে দুর্বলতা কাটতে ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে মনোবল রেখে প্রতিকার করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. রিপন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো ডেঙ্গু, যাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই জ্বর হলে অবশ্যই CBC টেস্ট করুন।যদিও ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে অধিক বিশ্রাম ও সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া যায়”।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সচেতন থাকার, নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগ :
আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Noman

মোহাম্মেদ নোমান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিটিএন কক্সবাজার এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করে পরিচিতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইন এর টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সীমান্তাঞ্চল টেকনাফের জনজীবন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও মাঠভিত্তিক অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।

গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল

রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতি: কক্সবাজারে ঘুরছে জ্বর ও শরীর ব্যথা

আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

পুরো বর্ষা জুড়েই কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে। এখন বর্ষার শেষ সপ্তাহ, মাঝে মাঝে মিলছে তীব্র রোদের দেখা, সঙ্গে বেড়েছে গরমও। আর এই রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতিতে ভাসছে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কক্সবাজারে এখন ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত।

প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে এসেছেন শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা নওরিন সুলতানা।তার স্বামী শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রথমে আমার জ্বর হয়, তারপর আমার স্ত্রী ও সন্তানের হয়েছে। এখন আমি সুস্থ আছি। তবে আমার স্ত্রী তিনদিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে এটা ভাইরাল জ্বর, বেশি পানি খেতে আর বিশ্রাম নিতে হবে”।

একই এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের বাসায় প্রথমে আমি অসুস্থ হই, তারপর আমার ছোট বোন আর মা-ও আক্রান্ত হয়। তিন দিন পর একটু ভালো লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক দুর্বল লাগছে।”

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিপন চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এলাকায় ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক রোগী জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার সমস্যায় আসছেন”।

তিনি আরও বলেন, “এই সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করছেন বা ভিড় এলাকায় যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে”।

এই সংক্রমণের কারণ হিসেবে চিকিৎসক চৌধুরী ধারণা করছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা তার কোনো ভ্যারিয়েন্ট, করোনা ভাইরাস কিংবা ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া।

তবে এসব রোগের চিকিৎসা জটিল নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বারে বারে তরল খাবার গ্রহণ, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। তবে দুর্বলতা কাটতে ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে মনোবল রেখে প্রতিকার করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. রিপন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো ডেঙ্গু, যাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই জ্বর হলে অবশ্যই CBC টেস্ট করুন।যদিও ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে অধিক বিশ্রাম ও সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া যায়”।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সচেতন থাকার, নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।