ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার ৪ সহ ৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনী পদক্ষেপ নেবে জামায়াত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ টেকনাফে উদ্ধার কিশোর,১ রোহিঙ্গাসহ চক্রের ৪ জন আটক প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: নির্বাচনী আচরণে প্রশংসিত জামায়াত আমির শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব ‘আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে’: তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস পিএসজির শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা ২৯৭ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ইসির ফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন? নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার

​‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই’: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। এ দেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী—যেই হোক, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে চাই।’ সোমবার কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১২টার পরপরই শফিকুর রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছেন। এর আগে সকালে তিনি মহেশখালীতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

উভয় সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে জনগণ নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে।’

তিনি বলেন, “১২ তারিখ আমরা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করব। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।”

জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সে জন্য ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা বরখেলাপ হবে না ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় তিনি বিভিন্ন আসনের প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ তা প্রমাণ করে দেবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য বন্ধেরও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।

এর আগে মহেশখালীর জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেটিই হবে প্রকৃত বিজয়। আমিও সেই বিজয়ের অংশ হবো, ইনশাআল্লাহ।’

সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রিয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা’র কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার ৪ সহ ৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনী পদক্ষেপ নেবে জামায়াত

This will close in 6 seconds

​‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই’: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। এ দেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী—যেই হোক, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে চাই।’ সোমবার কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১২টার পরপরই শফিকুর রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছেন। এর আগে সকালে তিনি মহেশখালীতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

উভয় সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে জনগণ নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে।’

তিনি বলেন, “১২ তারিখ আমরা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করব। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।”

জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সে জন্য ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা বরখেলাপ হবে না ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় তিনি বিভিন্ন আসনের প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ তা প্রমাণ করে দেবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য বন্ধেরও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।

এর আগে মহেশখালীর জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেটিই হবে প্রকৃত বিজয়। আমিও সেই বিজয়ের অংশ হবো, ইনশাআল্লাহ।’

সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রিয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা’র কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।