ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাগর দেখতে এসে আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫ ছাত্রলীগ নেতা লামায় ২ ইটভাটায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা লবণ আমদানির প্রতিবাদে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন: আমদানি স্থগিত করার আশ্বাস আরকান আর্মির কথিত পার্টনার রোহিঙ্গা অলি’কে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নৌবাহিনীর যৌথ অভিযান: হ্নীলায় অটোরিক্সা থেকে ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ভারত থেকে ভেনামি চিংড়ির নপলি আমদানির অনুমতি বাতিলের দাবি চকরিয়ায় বসতঘর থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার : আটক ১ সালাহউদ্দিন আহমদকে গণঅধিকার প্রার্থীর সমর্থন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা টেকনাফে প্রায় ৪ কোটি টাকার ইয়াবাসহ ২ পাচারকারি আটক পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ- বিএনপি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তনায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ উখিয়ার আলোচিত কামাল মেম্বার হত্যা কান্ড: ৮ আসামি কারাগারে পেকুয়ায় কলেজ ছাত্রের আ ত্ম হ ত্যা/ প্ররোচনাকারীদের শাস্তি চায় স্থানীয়রা সরকারি চাকরিজীবীরা যেভাবে পাবেন টানা ৪ দিনের ছুটি শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু নয়া পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাতের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

দোসরদের প্রভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে – সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ

প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা সক্রিয়, এমনকি তাদের প্রভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণার খবর প্রকাশের পর কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রভাব রয়ে গেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

তিনি আইনি ব্যাখ্যায় বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদ বলেন, “সাজা হওয়ার পরও আমি সংসদে ছিলাম, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি। তখন আদালত বা সংসদ কেউই এটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ বলেননি। একই মামলায় এখন মনোনয়ন বাতিল করা অন্যায় নজির।

তিনি প্রশাসনের আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন। বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদা করে ডেকে এনে নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করে না।

তার অভিযোগ, মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা আসার পর উপস্থিত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে। যারা প্রশাসনে দায়িত্বে থেকে হাততালি দেয়, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা প্রমাণ করে যে প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর সক্রিয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দেশে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন চাই। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব ও পুরনো রাজনৈতিক মামলাকে অস্ত্র বানানো হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।”

সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

ড. আযাদ আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে পুনরায় শুনানির আবেদন জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাগর দেখতে এসে আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫ ছাত্রলীগ নেতা

This will close in 6 seconds

দোসরদের প্রভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে – সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা সক্রিয়, এমনকি তাদের প্রভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণার খবর প্রকাশের পর কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রভাব রয়ে গেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

তিনি আইনি ব্যাখ্যায় বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদ বলেন, “সাজা হওয়ার পরও আমি সংসদে ছিলাম, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি। তখন আদালত বা সংসদ কেউই এটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ বলেননি। একই মামলায় এখন মনোনয়ন বাতিল করা অন্যায় নজির।

তিনি প্রশাসনের আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন। বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদা করে ডেকে এনে নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করে না।

তার অভিযোগ, মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা আসার পর উপস্থিত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে। যারা প্রশাসনে দায়িত্বে থেকে হাততালি দেয়, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা প্রমাণ করে যে প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর সক্রিয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দেশে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন চাই। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব ও পুরনো রাজনৈতিক মামলাকে অস্ত্র বানানো হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।”

সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

ড. আযাদ আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে পুনরায় শুনানির আবেদন জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।