ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কক্সবাজারে ক্র্যাকের ‘জরুরি সহায়তা সেল’ গঠন প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন? কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯ চকরিয়া-পেকুয়া : অভিজ্ঞের সাথে নতুনের লড়াই কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দেশের ওপর ১৬ বছর ধরে যেন ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে: বিবিসিকে ড. ইউনূস

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: বিবিসি

বাংলাদেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বুধবার (৫ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে আমি সরকারের নেতৃত্ব দেবো। সরকার পরিচালনার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে সব স্থিতিশীল হওয়ার পর আমরা সবকিছু সংগঠিত করতে শুরু করি।

দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেছেন, অর্থনীতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনীতির অবস্থা এতটা ভয়াবহ, যেন এর ওপর দিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন না সাধারণ মানুষ। উল্টো তাদের ধারণা, নিরাপত্তা বরং কমেছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ভালো পরিস্থিতি তো আসলে আপেক্ষিক বিষয়। গত বছরের একই সময় কালের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবেন, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। এখন যা হচ্ছে, সেটা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।

দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস।

বাংলাদেশে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। ড ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সামনের বছর মার্চ নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। যদি সংস্কার কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়, তবে ডিসেম্বরেই সেটা করা যেতে পারে। নইলে কিছুদিন বিলম্ব হবে।

সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এই সিদ্ধান্ত তাদের। আর কে অংশগ্রহণ করতে পারবে সেটা যাচাই করে দেখবে নির্বাচন কমিশন। আমার তো এখানে কিছু বলার নেই।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার পৈতৃক বাসভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এসব নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিচ্ছে।

তবে মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেছেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারা অনিরাপদ বোধ করলে সেখানে যাক। বিবিসির কাছে গিয়ে অভিযোগ করার কী আছে! তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করে দেখুক আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কক্সবাজারে ক্র্যাকের ‘জরুরি সহায়তা সেল’ গঠন

This will close in 6 seconds

দেশের ওপর ১৬ বছর ধরে যেন ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে: বিবিসিকে ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বুধবার (৫ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে আমি সরকারের নেতৃত্ব দেবো। সরকার পরিচালনার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে সব স্থিতিশীল হওয়ার পর আমরা সবকিছু সংগঠিত করতে শুরু করি।

দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেছেন, অর্থনীতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনীতির অবস্থা এতটা ভয়াবহ, যেন এর ওপর দিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন না সাধারণ মানুষ। উল্টো তাদের ধারণা, নিরাপত্তা বরং কমেছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ভালো পরিস্থিতি তো আসলে আপেক্ষিক বিষয়। গত বছরের একই সময় কালের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবেন, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। এখন যা হচ্ছে, সেটা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।

দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস।

বাংলাদেশে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। ড ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সামনের বছর মার্চ নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। যদি সংস্কার কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়, তবে ডিসেম্বরেই সেটা করা যেতে পারে। নইলে কিছুদিন বিলম্ব হবে।

সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এই সিদ্ধান্ত তাদের। আর কে অংশগ্রহণ করতে পারবে সেটা যাচাই করে দেখবে নির্বাচন কমিশন। আমার তো এখানে কিছু বলার নেই।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার পৈতৃক বাসভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এসব নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিচ্ছে।

তবে মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেছেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারা অনিরাপদ বোধ করলে সেখানে যাক। বিবিসির কাছে গিয়ে অভিযোগ করার কী আছে! তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করে দেখুক আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন