ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের ৩১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন স্মৃতিফলকে ফুল দিলেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হয় না… কক্সবাজারে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও ব্যান্ড ডিসপ্লে বিজয় দিবসে কক্সবাজারের আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাই পাস্ট স্বাধীনতার শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় : মির্জা ফখরুল কক্সবাজারে হঠাৎ আ গু নে পুড়ল যাত্রীবাহী বাস বিজয় দিবসে কক্সবাজারে ‘রান উইথ কক্স শিবির’ কর্মসূচি আয়োজিত রামু ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নাম পরিবর্তনে সরকারের অনুমোদন বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা’র শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ, বিজয়ের প্রথমপ্রহর থেকে কক্সবাজারে উৎসবমুখর আয়োজন আজ মহান বিজয় দিবস ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে শুরু হবে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি: যা যা থাকবে প্রেসক্লাবে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা-মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রচনা ও বিকৃতি রোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা পালনের আহবান পেকুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার : ক্ষোভ ও নিন্দা কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরানো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধহীন’ সেই আলপনা

থানা হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: তিন পুলিশ প্রত্যাহার; স্থানীয়দের বিক্ষোভ

কক্সবাজারের চকরিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যুতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। এরপর এ ঘটনায় এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও দুই পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের তথ্য জানিয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে তিন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেন।

বিকেলে তিনটার দিকে বিক্ষোভে চকরিয়া ইমাম সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

কফিল উদ্দিন প্রশ্ন রেখে বলেন, “প্রিজন সেলে কিভাবে মানুষ মারা যায়? আসামি রাখার তো একটা জায়গা আছে, রিমান্ডে তাকে তোমরা মারলা কেনো? টর্চার করলা কেনো? ফাঁসি খেলো কিভাবে? সে ফাঁসি খেয়েছে নাকি তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে? এসবের উত্তর চকরিয়ার মানুষ জানতে চায়।

এরআগে দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে কথা হয় দুর্জয় চৌধুরীর ফুফাতো ভাই সঞ্জীব দাশ এর সাথে।

সঞ্জীব প্রশ্ন তোলেন, হাজতের বাইরে তো কনস্টেবল থাকার কথা। তাহলে কি তিনি দায়িত্বে ছিলেন না?

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাশ বলেন, ‘আত্মহত্যার দৃশ্য কিছুটা দুরত্বের কারণে সরাসরি ধারণ না হলেও দুর্জয়ের ‘চলাফেরা’ ও অন্যান্য কার্যকলাপের দৃশ্য থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’

পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ চকরিয়া থানা হাজতে যুবক আত্মহত্যার ঘটনায় মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল করেছেন।’

‘তদন্ত কমিটি নিরুপণ করবে ঘটনাটি কি ছিলো এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা’ বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে দুর্জয়ের কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় তাকে রাত ১১ টায় হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানান পুলিশের এই দুজন কর্মকর্তা।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় ঐ যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের দাবী, নিহত যুবক দুর্জয় চৌধুরী আত্মহত্যা করেছে। সে চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের ৩১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন

This will close in 6 seconds

থানা হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: তিন পুলিশ প্রত্যাহার; স্থানীয়দের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজারের চকরিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যুতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। এরপর এ ঘটনায় এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও দুই পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের তথ্য জানিয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে তিন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেন।

বিকেলে তিনটার দিকে বিক্ষোভে চকরিয়া ইমাম সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

কফিল উদ্দিন প্রশ্ন রেখে বলেন, “প্রিজন সেলে কিভাবে মানুষ মারা যায়? আসামি রাখার তো একটা জায়গা আছে, রিমান্ডে তাকে তোমরা মারলা কেনো? টর্চার করলা কেনো? ফাঁসি খেলো কিভাবে? সে ফাঁসি খেয়েছে নাকি তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে? এসবের উত্তর চকরিয়ার মানুষ জানতে চায়।

এরআগে দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে কথা হয় দুর্জয় চৌধুরীর ফুফাতো ভাই সঞ্জীব দাশ এর সাথে।

সঞ্জীব প্রশ্ন তোলেন, হাজতের বাইরে তো কনস্টেবল থাকার কথা। তাহলে কি তিনি দায়িত্বে ছিলেন না?

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাশ বলেন, ‘আত্মহত্যার দৃশ্য কিছুটা দুরত্বের কারণে সরাসরি ধারণ না হলেও দুর্জয়ের ‘চলাফেরা’ ও অন্যান্য কার্যকলাপের দৃশ্য থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’

পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ চকরিয়া থানা হাজতে যুবক আত্মহত্যার ঘটনায় মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল করেছেন।’

‘তদন্ত কমিটি নিরুপণ করবে ঘটনাটি কি ছিলো এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা’ বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে দুর্জয়ের কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় তাকে রাত ১১ টায় হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানান পুলিশের এই দুজন কর্মকর্তা।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় ঐ যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের দাবী, নিহত যুবক দুর্জয় চৌধুরী আত্মহত্যা করেছে। সে চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।