ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেই, কক্সবাজারেও ভোগান্তি আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশনের স্বর্ণপদক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুল অর্জন করলেন টেকনাফের সাউদা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না – উখিয়ায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারুর গণভোটের ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন জনতার কাফেলা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে- কক্সবাজারে আদিলুর রহমান খান ইসিতে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি শুরু হোয়াইক্যং সীমান্তের চিংড়ি ঘের থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার পেকুয়ায় লবণ চাষিকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা

উখিয়ায় তাঁতীলীগনেতাকে ছেড়ে দিয়ে কিসের বিনিময়ে সাংবাদিক ধরলেন ওসি?

বিশেষ অভিযানের সময় উপজেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন সিকদার’কে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ।

একই রাতে তানভীর শাহরিয়া নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দিবাগত রাত ২ টার দিকে তানভীর কে উপজেলা সদরের ফলিয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে রাত ১১ টার দিকে উপজেলা সদর থেকে তাঁতীলীগ নেতা সালাউদ্দিনকে আটক করে পুলিশের টহল দল।

অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের প্রত্যক্ষ মদদে সালাউদ্দিনকে ছাড়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবী, সালাউদ্দিনের ভাই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত যার সুপারিশে কৌশলে ওসি তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।

উখিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘ সালাউদ্দিনের আটকের বিষয়টি সত্যি। সে শারিরীকভাবে অসুস্থ এবং হাতে ক্যানোলা ছিলো পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’

এদিকে সংবাদকর্মী তানভীর গ্রেফতারের খবর সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। উখিয়ায় তার অধিকাংশ সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এলাকায় প্রতিবাদি সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তানভীর প্রতিহিংসার শিকার এবং পতিত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি অসংখ্য মামলায় আসামি হয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উখিয়ার সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহেল ইসলাম তানভীরের ছবিসহ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনি হাসিনার দেওয়া ১১টা মামলার আসামী।আপনি ১৬বছর ধরে সীমান্ত জনপদের সম্রাট আব্দু রহমান বদি এবং জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অকুতোভয়ে প্রতিবাদ করে যাওয়া তানভীর।আপনি ২৪এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লিখে যাওয়া কলম সৈনিক।আপনাকে সবসময় বলতাম,চিন্তা কইরেন না।আপনি আমাদের সহযোদ্ধা। কিন্তু ভালো রাখতে পারলাম না।ক্ষমা করবেন আমাদের।’

এবিষয়ে জানতে ওসি জিয়াউল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তাঁতিলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কিন্তু পরে স্বীকার করে বলেন অসুস্থ থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক তানভিরকে আটকের বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।

কিন্তু উখিয়ায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের চলাফেরা থাকলেও একজন সাংবাদিককে কেন গ্রেপ্তার করা হল? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত

This will close in 6 seconds

উখিয়ায় তাঁতীলীগনেতাকে ছেড়ে দিয়ে কিসের বিনিময়ে সাংবাদিক ধরলেন ওসি?

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশেষ অভিযানের সময় উপজেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন সিকদার’কে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ।

একই রাতে তানভীর শাহরিয়া নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দিবাগত রাত ২ টার দিকে তানভীর কে উপজেলা সদরের ফলিয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে রাত ১১ টার দিকে উপজেলা সদর থেকে তাঁতীলীগ নেতা সালাউদ্দিনকে আটক করে পুলিশের টহল দল।

অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের প্রত্যক্ষ মদদে সালাউদ্দিনকে ছাড়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবী, সালাউদ্দিনের ভাই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত যার সুপারিশে কৌশলে ওসি তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।

উখিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘ সালাউদ্দিনের আটকের বিষয়টি সত্যি। সে শারিরীকভাবে অসুস্থ এবং হাতে ক্যানোলা ছিলো পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’

এদিকে সংবাদকর্মী তানভীর গ্রেফতারের খবর সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। উখিয়ায় তার অধিকাংশ সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এলাকায় প্রতিবাদি সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তানভীর প্রতিহিংসার শিকার এবং পতিত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি অসংখ্য মামলায় আসামি হয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উখিয়ার সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহেল ইসলাম তানভীরের ছবিসহ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনি হাসিনার দেওয়া ১১টা মামলার আসামী।আপনি ১৬বছর ধরে সীমান্ত জনপদের সম্রাট আব্দু রহমান বদি এবং জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অকুতোভয়ে প্রতিবাদ করে যাওয়া তানভীর।আপনি ২৪এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লিখে যাওয়া কলম সৈনিক।আপনাকে সবসময় বলতাম,চিন্তা কইরেন না।আপনি আমাদের সহযোদ্ধা। কিন্তু ভালো রাখতে পারলাম না।ক্ষমা করবেন আমাদের।’

এবিষয়ে জানতে ওসি জিয়াউল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তাঁতিলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কিন্তু পরে স্বীকার করে বলেন অসুস্থ থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক তানভিরকে আটকের বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।

কিন্তু উখিয়ায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের চলাফেরা থাকলেও একজন সাংবাদিককে কেন গ্রেপ্তার করা হল? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।